নাইকো দুর্নীতি মামলা

চার্জ শুনানির জন্য সময় পেলেন খালেদা

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৯, ২০:২২
ফাইল ছবি

নাইকো দুর্নীতির মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত সময় পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে এটি সর্বশেষ সময় বলে জানিয়েছেন আদালত।

খালেদার আইনজীবীদের আবেদনে মঙ্গলবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালত এ সময় মঞ্জুর করেন।

পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত আদালতে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে হুইল চেয়ারে করে হাজির করেন কারা কর্তৃপক্ষ।

শুনানির শুরুতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, `খালেদা জিয়া ছাড়া সকল আসামির পক্ষে অব্যাহতির আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। গত তারিখে তারা সময় নিয়েছেন। আজ তারা শুরু করলে শেষ হবে।‘

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেন, `জব্দ করা আলামতের কপি না পাওয়ায় আবেদন প্রস্তুত করতে পারিনি। তাই শুনানি পেছানোর আবেদন করছি।‘

তখন কাজল বলেন, `অব্যাহতির শুনানি করতে কি আলামত লাগে? আর যেসব পেপার ছিল, তা আমরা দিয়ে দিয়েছি। এখন তারা এসব কথা বলে শুনানি বিলম্বিত করার চেষ্টা করছেন।‘

বিচারক মাসুদ তালুকদারের উদ্দেশ্যে বলেন, `চার বছর ধরে চার্জশুনানি চলছে। এতদিনেও আপনারা আবেদন করেননি কেন? আমি তো দেশের সর্বোচ্চ আদালত না। আমি সব কিছু করতে পারি না।‘

জবাবে মাসুদ তালুকদার বলেন, `খালেদা জিয়ার মামলা তৈরিতে গোঁজামিল আছে। সেজন্য তারা কাগজপত্র সরবরাহ করছেন না।‘ এরপর বিচারক জানতে চান, তারা খালেদা জিয়ার পক্ষে অব্যাহতির শুনানি করবেন কি না। তখন তালুকদার বলেন, `কাগজ পেলে আমরা শুনানি করবো।‘

এরপর খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, `এটা একটা গ্রাউন্ডলেস মামলা। কাগজগুলো পেলে আমরা তা দেখাবো। এজন্য সময় দেওয়া দরকার।‘

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত বলেন, `আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করলাম। ওইদিন শুনানি না করলে আদেশ দেব।‘

শুনানি শেষে খালেদা জিয়া তার আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, `অব্যাহতির আবেদন দেননি কেন?‘ তবে এ প্রশ্নের কোনো জবাব আইনজীবীদের দিতে দেখা যায়নি। এরপর বেলা ১টা ২৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুনানি চলাকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কথা বলতে দেখা গেছে।

আদালতের কার্যক্রম শেষে বের হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, `মাঝখানে আমরা একদিন এসে খালেদা জিয়াকে দেখে গিয়েছিলাম। সেদিনের তুলনায় আজকে তার অবস্থা আরো খারাপ। এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। এখনো এখানে ডাক্তার আসেননি। তার রক্ত নেওয়া হয়নি। আজকে এখানে আসার আগে তার বমি হয়েছে। তিনি কিছু খেতে পারছেন না। তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তার প্রপার ট্রিটমেন্ট হচ্ছে না।‘

সরকার তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হতে বলেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, `তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন, সেখানে তার কোনো চিকিৎসা হয় না। আমরা সরকারকে তাকে একটা বিশেষায়িত হাসপাতালে নিতে বলেছি। এখন পর্যন্ত সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মেডিকেল বোর্ডের মধ্যে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে পাঠাতে পারেন। রক্ত পরীক্ষা করার যে ব্যাপারটি আছে সেটা তারা করতে পারেন।‘

`তিনি চাচ্ছেন, অতি শিগগিরই তার রক্ত পরীক্ষা করা হোক। প্রফেসর ড. সৈয়দ আতিকুল হকের মাধ্যমে তাকে দেখানো ও তাকে দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।‘

মামলার অপর আসামিরা হলেন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একে এম মোশাররফ হোসেন ও সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম),  জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম,  নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর বিরুদ্ধে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটের বৈধতা চ্যলেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রীট আবেদন করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন। ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জ করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেওয়ার’ অভিযোগে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/জেডআর/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :