‘নিউজিল্যান্ড সরকার জানতো হামলা হবে, তবু ব্যবস্থা নেয়নি’

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ২৩:৩৪ | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৯, ২৩:০৫

নিউজিল্যান্ডে যে খ্রিস্টান উগ্রপন্থীরা শীঘ্রই হামলা চালাতে পারে এ বিষয়ে আগেভাগেই সাবধান করে দেওয়া হয়েছিল সে দেশের সরকারকে এমনটা দাবি করেছেন নিউজিল্যান্ডের ওয়েকাটো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং সেখানকার খ্যাতনামা লেখক অ্যালেক্সান্ডার গিলেস্পি।

ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার আগে খুব কম লোকই বিশ্বাস করতো যে এতো বড় ধরণের সন্ত্রাসী হামলা নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও হতে পারে। বহির্বিশ্বের কাছে নিউজিল্যান্ড অনেক শান্তিপ্রিয় আর নিরাপদ একটি দেশ হিসেবেই এতোদিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসছে। ‘গ্লোবাল পিস ইনডেক্স’ এর মতে নিউজিল্যান্ড বিশ্বের দ্বিতীয় শান্তিপ্রিয় দেশ। নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডও ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। বছরে গড়ে ১০টি হত্যাকান্ডের মতো ঘটনা ঘটে যা অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় নগণ্য।

এতোকিছুর পরেও এই অধ্যাপক নিউজিল্যান্ড সরকারের অস্ত্র আইন নিয়ন্ত্রণ করে এমন বিশেষ একটি কমিটিকে সাবধান করে দেন এই বলে যে, দেশে খুব শীঘ্রই নিরীহ মানুষজনের উপর নির্বিচারে গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে কারণ উগ্রপন্থীরা ক্রমশই ফুলেফেঁপে উঠছে এবং হুমকি দিয়ে আসছে এমন কিছু ঘটাবে বলে। ইউরোপ-আমেরিকার বেশ কয়েকটি ঘটনা এর সাক্ষ্য বহন করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ের এই গবেষক নিউজিল্যান্ডে এমন একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে বলে দৃঢ়চিত্তে জানিয়েছিলেন সরকারের ওয়াকিবহালদেরকে কিন্তু তাকে হাসির পাত্র হিসেবে ফিরে আসতে হয়েছিল।  সরকারের ঐ কমিটি তাকে অতি নাটুকে বলে তিরস্কারও করে। খবর আল-জাজিরার।

এই কলামিস্ট আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে উগ্রপন্থীরা হয়তো সংখ্যায় কম কিন্তু তারা অনেক একতাবদ্ধ এবং দেশের বাইরের সমমনা উগ্রপন্থীদের সাথে তাদের যোগাযোগ ছিল। কিন্তু দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এগুলোকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি তারা গুরুত্ব দিচ্ছিল ‘জ্বিহাদী’ আর ক্রিমিনাল গ্যাং গুলোকে। এমনকি তাদের নজরদারি ছিল ‘জ্বিহাদী হতে পারে এমন’ মানুষের উপরও। স্বাভাবিকভাবেই তাই উগ্রপন্থীরা তাদের ‘হেট স্পিচ’ অন্যান্যদের মাঝে ছড়ানোর সুযোগ পেয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটা ঘটলো।

নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র আইনও খুবই সাধারণ। যে কেউ চাইলে ভারি অস্ত্র বহন করতে পারে। স্মল আর্মস বহন তো আরও সহজ কাজ। ক্রাইস্টচার্চের হামলাকারীর কাছে যদি কোনো স্মল আর্মস থাকতো তবে সে এমন ঘটনা ঘটাতে পারতো না। দু-চারটে গুলি করবার পরে তার পিস্তল রিলোড করতে যে সময় ব্যয় হতো সে সময়ে কেউ না কেউ তাকে ধরাশায়ী করে ফেলতো। আর এভাবে ৫০ জন নিরীহ-নিরপরাধ মানুষকে আত্নহুতি দেওয়া লাগতো না।‘’

ঢাকাটাইমস/এমআই

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :