আসল ১০ হাজারে এক লাখ জাল টাকা

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৯, ১৪:৫৩

রাজশাহীর এক বাড়িতেই গড়ে উঠেছিল ‘টাকশাল’। তবে সেখানে আসল নয়, তৈরি হতো হাজার হাজার জাল টাকা। আসল ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো জাল এক লাখ টাকা। জাল টাকা ব্যবহার হতো মাদক কিনতেও। এই চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন, রাজশাহী মহানগরের কাটাখালি থানার শ্যামপুর পশ্চিমপাড়া মহল্লার সামাউন আলীর ছেলে জনি হাসান (২৪), একই এলাকার মাসুদ রানার ছেলে জনি আলী (২২), জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ইনসান মিয়া (২২) এবং পবা উপজেলার হরিয়ান পশ্চিমপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম রেজুর ছেলে সুমন রানা (২৪)।

এই চার তরুণের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে আট লাখ ১২ হাজার জাল টাকা। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল মঙ্গলবার রাতে কাটাখালি থানার দেওয়ানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে বুধবার সকালে নগর ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে জাল টাকাসহ তাদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।

সেখানে ডিবি পুলিশের উপ-কমিশনার আবু আহাম্মদ আল মামুন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে ৮১২টি এক হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তারা নোটগুলো বিক্রির জন্য একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। তাদের সবার কাছেই জাল নোট পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমনের দোতলা বাড়ির নিচতলা থেকে জাল নোট তৈরির প্রিন্টার ও কাগজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সুমন রানা রাজশাহী কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। অন্য তিনজন স্বল্প শিক্ষিত। গ্রাফিক্সে পারদর্শী সুমন জাল নোট তৈরি করতেন। জনি হাসান ও জনি আলী বিভিন্ন স্থানে জাল নোট বিক্রি করতেন। আর ইনসান মিয়া একজন মাদক ব্যবসায়ী। তিনি জাল নোট দিয়ে মাদক কিনে প্রতারিত করতেন। ইতিপূর্বে ইনসান মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তবে পবা উপজেলার দামকুড়া বাজারে ইনসানের মোটরসাইকেল মেকানিকের দোকান আছে। মেকানিকের কাজের আড়ালে এসব অপকর্ম করেন তিনি।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জনি হাসান শিবির ও জনি আলী ছাত্রদল করেন। তারা জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে তারা প্রায় সাত লাখ জাল টাকা বিক্রি করেছেন। তারা যাদের কাছে এসব নোট বিক্রি করেছেন তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আর গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে রাতেই বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে।

গেল বছরের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেদিন দুই বাড়ি থেকে ৬০ লাখ ভারতীয় জাল রুপি জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার হন দুইজন। এদের মধ্যে রাজশাহীতে গ্রেপ্তার হওয়া দরদুজ্জামান বিশ্বাস ওরফে জামান (৫৭) দেশে টাকা জালকারী চক্রের মূলহোতা। ১৯৮৮ সাল থেকে জাল টাকা এবং ভারতীয় জাল রুপি তৈরির এই কারিগর বরাবরই থাকেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘মোস্ট ওয়ানটেড’ তালিকায়।

দরদুজ্জামানের সঙ্গে গ্রেপ্তার চারজনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না জানতে চাইলে নগর ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা আবু আহাম্মদ আল মামুন বলেন, এটি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তারা কারও না কারও কাছে জাল টাকা তৈরির কৌশল শিখেছেন। সে ব্যাপারে কিছু তথ্যও পাওয়া গেছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাল টাকার কারিগরদের ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

(ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/আরআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :