ট্রাম্পের উদ্বেগ নিয়ে আমরা চিন্তিত নই: ইসি

ব্যুরো প্রধান, বরিশাল, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৯, ২২:৩১ | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৯, ২১:২৭

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, `বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। আমরা আমাদের দেশের মানুষের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছি।`

তিনি বলেন, `ভোট একটি উৎসব। এই উৎসবে সকল ভোটারদের অংশ নেওয়া উচিৎ। এখন যদি কেউ ভোট দিতে না আসেন, সেজন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কী করার আছে? তবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠানে কমিশন সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার।`

বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভা শুরুর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, `বেশ কয়েকটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এতে তাদের সমর্থকরা স্বাভাবিকভাবেই আসবেন না। আর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও ভোটার আসেন না। যে কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে ১৮ মার্চের নির্বাচনে যেসব উপজেলায় শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, সেগুলোতে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ভোট কাস্টিং হয়েছে।`

নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, `উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবেই হচ্ছে। ইতোপূর্বে দুটি ধাপে যে নির্বাচন হয়েছে, তাতে দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যেখানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রিজাইডিং অফিসাররা কারাগারেও গেছেন। পরবর্তী নির্বাচনও হবে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার। এর ব্যত্যয় হলে এখানেও সামান্যতম ছাড় দেওয়া হবে না।`

‘যদি আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য অপকর্মে লিপ্ত হলে তাদেরও সামান্যতম ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো ভোটার বাধাপ্রাপ্ত হবেন না। কোনো ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসে তার ভোটটা না দিয়ে যাবেন না, ভোটটা তাদের পছন্দের প্রার্থীকেই দেবেন।`

সকালে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে ভোট কারচুপি হয়-এজন্য আমাদের কমিশন এই উদ্যোগ নেয়নি। বরং দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও ভালোর কথা চিন্তা করেই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের অনেক নারী প্রিজাইডিং অফিসার রয়েছেন, যাদের রাতভর ভোট কেন্দ্রে থাকতে হয়।`

`আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও না ঘুমিয়ে আবার দিনভর নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে তাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয় বলেই আমরা দিনে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানোর কথা বলছি। এখানে অন্য কোনো কারণ নেই।`

২৪ মার্চ বরিশাল জেলার ৯টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্কিট হাউজে নির্বাচন সংক্রান্ত ওই বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস।

সভায় বরিশাল মহানগর পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মো. মোশাররফ হোসেন, বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, বিজিবি খুলনার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আরশাদুজ্জামান খান, ডিজিএফআই-এর অধিনায়ক কর্নেল জিএম শরিফুল ইসলাম, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৮) অধিনায়ক আতিকা ইসলাম, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুস মিয়াসহ বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর ও ভোলা জেলার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/ব্যুরো/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত