হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা

ওসি সালাউদ্দিনের স্ত্রীসহ আরও পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৯, ১৬:২০

রাজধানীর গুলশান হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী র‌্যামকিমসহ পাঁচজন।

অন্য চারজন হলেন- নুরজাহান বেগম এবং তার বাড়ির কেয়ারটেকার দাউদ, আবির আহমেদ ও ড্রাইভার শফিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন তারা। বিচারক মো. মজিবুর রহমান আগামী ২৭ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ করতে এসে জঙ্গিদের ছোড়া বোমায় নিহত হন ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ। মৃত্যুর পর তার শারিরীক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। সেখানে সাক্ষী করা হয় স্ত্রী র‌্যামকিমকে। তিনি ওই সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন।

নুরজাহান বেগম ও তার বাড়ির কেয়ারটেকার দাউদ তাদের রুপনগরের বাসায় মামলার আসামি তানভীর কাদেরী নিজেকে ইসমাইল পরিচয়ে ভাড়া ছিলেন বলে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষী আবির হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনার একমাস আগে আসামি রিগ্যান তাদের মোহাম্মদপুরের বাসায় ভাড়া ছিলেন বলে সাক্ষ্য দেন। শেষ সাক্ষী শফিকুল জানান, ঘটনার দিন তিনি গাড়িতে করে ছয়জন ইটালিয়ান নাগরিককে হলি আর্টিজানে পৌঁছে দেন। যারা সবাই ওই ঘটনায় নিহত হয়।

এ নিয়ে মামলাটিতে ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।

সাক্ষ্যগ্রহণকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন, শফিকুল ইসলাম ওরফে খালেদ, হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী এবং হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ১৭ জন বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলিতে হত্যা করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের ওপর গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। গ্রেনেড হামলায় ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন নিহত হন। যৌথ বাহিনী পরে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। অভিযানে ছয় জঙ্গির সবাই নিহত হন।

গত বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত বছরের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের পর ৪ ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

(ঢাকাটাইমস/২১মার্চ/জেডআর/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :