রাজশাহীতে উচ্ছেদ অভিযান

‘কেনা জমির’ ভবনও গুঁড়িয়ে দিল রেলওয়ে!

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৯, ২১:৪৮

রাজশাহী নগরীর চারখুটা মোড় থেকে কোর্ট স্টেশন পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার ও বুধবারের এ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে প্রায় ৯০০ স্থাপনা। এর মধ্যে একটি দোতলা ভবন নিজের কেনা জমিতে ছিল বলে দাবি ভবন মালিকের।

ভবন মালিক ইয়াহিয়া হোসেন জানান, তিনি ২০০১ ও ২০০২ সালে কোর্ট স্টেশন এলাকায় প্রথমে আড়াই কাঠা জমি কেনেন। বাড়ি নির্মাণ করতে তখন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে (আরডিএ) নকশা অনুমোদন করেন। পরে বাড়ি করা হয়নি। এর কিছু দিন পর ওই জমিরই আরও কিছু অংশ কেনেন। এরপর মোট প্রায় সাড়ে ৪ কাঠা জমির ওপর বাড়ি করতে দ্বিতীয় দফায় আরডিএ থেকে নকশা অনুমোদন করেন।

এরপর ২০১৫ সালের দিকে তিনি দোতলা ভবন নির্মাণ করেন। এর নিচতলায় থাকে দোকানপাট, দোতলায় বাড়ি। সেই থেকে তিনি এবং তার পরিবার ওই ভবনে বাস করছেন। জমিটির খাজনা খারিজ এখনো তাঁর নামেই রয়েছে। কিন্তু এতোসব কাগজপত্র থাকা সত্বেও গত মঙ্গলবার রেলওয়ের উচ্ছেদকারী দল তার ভবনটি ভেঙে ফেলে। এতে তিনি কমপক্ষে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ইয়াহিয়া হোসেনের ছেলে জমির বিভিন্ন কাগজপত্র দেখান। এতে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর বোয়ালিয়া থানার বড়কুঠি ভূমি অফিসে জমিটির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা হয়েছে। হড়গ্রাম মৌজার জেএল নম্বর-৫১ ও ২৭০১ ও ২৭০৩ নম্বর দাগে জমিটির মালিকের নাম হিসেবে ইয়াহিয়া হোসেনের নাম রয়েছে। এর খতিয়ান নম্বর ৮৯০২। ইয়াহিয়া বলেন, রেলের জমি হলে আরডিএ দুই দফা নকশা অনুমোদন করল কীভাবে? আর জমির ভূমি উন্নয়ন করই বা গ্রহণ করা হলো কীভাবে?

ইয়াহিয়া হোসেন আরও জানান, তিনি জমিটি কেনার আগে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন মালিকের কাছ থেকে জমির কিছু অংশ সরকার অধিগ্রহণ করে সড়ক নির্মাণ করা হয়। এর ক্ষতিপূরণও তখনকার মালিক পান। কিন্তু তিনি বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই রেলওয়ের কর্মকর্তারা বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলাটি চলমান। এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে মামলার দিন ধার্য্য রয়েছে। কিন্তু এতোসব কথা না শুনেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।

ইয়াহিয়া অভিযোগ করে বলেন, ভবন ভাঙার বিষয়ে তিনি আগে থেকে কোনো নোটিশ পাননি। নোটিশ পেলে তিনি রেলওয়েতে গিয়ে জমির কাগজপত্র দেখিয়ে আসতেন। তবে এলাকায় মাইকিং হয়েছিল। যেহেতু জমি তার কেনা তাই তিনি নিশ্চিন্তে ছিলেন। কোনো আসবাবপত্র সরাননি। সবকিছুই ভবনের সঙ্গে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। ইয়াহিয়া জানান, তিনি একজন সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। পেনশনের সমস্ত টাকা দিয়ে তিনি জমি কিনে ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন। এখন তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এ নিয়ে তিনি রেলওয়ের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলা করবেন বলেও জানান।

এ নিয়ে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান ভূ-সম্পতি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, এই ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আমাদের জায়গা উদ্ধার করেছি। কারো ব্যক্তি মালাকানাধীন জায়গায় নির্মিত ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা নাই। তারপরেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ঢাকাটাইমস/২১মার্চ/আরআর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :