বসল নবম স্প্যান

পদ্মা সেতুর প্রায় দেড় কিলোমিটার দৃশ্যমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৯, ১৪:১৬ | প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৯, ০৮:৫৯
ফাইল ছবি

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নবম স্প্যানটি অবশেষে বসানো হয়েছে। জাজিরা প্রান্তের ৩৫ ও ৩৪ নম্বর খুঁটিতে শুক্রবার সকালে এই স্প্যানটি বসানো হয়। এর মাধ্যমে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই সেতুটির ১৩৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে।

নবম স্প্যানটি গতকাল বৃহস্পতিবার বসানোর কথা ছিল। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে শেষ পর্যন্ত বসানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকাল আটটার দিকে স্প্যানটি বসানোর কাজ শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ূন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বুধবার মাওয়ার কুমারভোগের বিশেষায়িত ওর্য়াকশপ থেকে ‘৬ডি’ নম্বর স্প্যানটি শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে নিয়ে আসে ভাসমান জাহাজ।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, মূল পদ্মা সেতুর ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই নয়টি স্প্যান বসানো হয়েছে। এ ছাড়া ৪২টি পিলারের মধ্যে ২২টির পাইল পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে আরও ১০টি পিলার নির্মাণ সম্পন্ন হবে। সব মিলিয়ে দুই মাসের মধ্যে ৩২টি পিলারের নির্মাণ শেষ হবে। এ ছাড়া ২৬২টি পাইলের মধ্যে ২১০টি পাইল নদীগর্ভে বসানো হয়ে গেছে।

সর্বশেষ গত ২০ ফেব্রুয়ারি জাজিরা প্রান্তে ৩৬ ও ৩৫ নম্বর পিলারের ওপর পদ্মা সেতুর অষ্টম স্প্যান বসানো হয়। ওই স্প্যান বসানোর মধ্যে দিয়ে এই প্রান্তে পদ্মা সেতুর টানা এক হাজার ৫০ মিটার অংশ দৃশ্যমান হয়। এ ছাড়া মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর পিলারে দেড় শ মিটারের আরও একটি স্প্যান আগেই বসানো হয়েছে।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারে বসানো হয় দ্বিতীয় স্প্যান। গত বছরের ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের ওপর বসে তৃতীয় স্প্যান। ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের ওপর চতুর্থ স্প্যান বসানো হয়। ২৯ জুন সেতুর পঞ্চম স্প্যান বসানো হয় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায়। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি জাজিরা প্রান্তের তীরের দিকের ষষ্ঠ স্প্যান বসে। আর গত বছরের শেষ দিকে মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর স্তম্ভের ওপর একমাত্র স্প্যানটি বসানো হয়।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই বছরের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। প্রকল্পের বর্তমান ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল সেতু নির্মাণের দায়িত্বে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। আর নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

(ঢাকাটাইমস/২২মার্চ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :