কোনোক্রমেই প্রশ্ন ফাঁসের ফাঁদে জড়াবেন না

শেখ নাজমুল আলম
| আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ২১:০৩ | প্রকাশিত : ৩০ মার্চ ২০১৯, ২০:৩৫

আগামী সোমবার শুরু হতে যাচ্ছে ২০১৯ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে থাকে। যা তাদের পূর্ববর্তী জ্ঞানের ফলাফল এবং পরবর্তী ভাগ্য নির্ধারণের একটা সোপান মনে করা হয়।

কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত যেকোনো পরীক্ষার প্রধান সমস্যা হলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব। প্রতি বছর পরীক্ষা শুরু হলেই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টা সামনে চলে আসে। কিছু অসাধু ব্যক্তি সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে আমাদের মূল্যবোধকে বেচাকেনার হাটে তোলে।

কতক অভিভাবক, শিক্ষার্থী এতে শামিল হয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও এই প্রশ্নফাঁসের গুজব পরীক্ষার্থীকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এমনিতেই পড়াশোনাসহ পরীক্ষার চিন্তা, সঙ্গে যুক্ত হয় গুজব সব মিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর অবস্থা হয় অবর্ণনীয়। পড়াশোনা বাদ দিয়ে তারা প্রশ্ন সংগ্রহে মনযোগী হয়ে পড়ে। তাই আমরা সকলেই চাই, চিরতরে অবসান হোক এই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া; সঙ্গে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো বা রটানো।

আমাদের সমাজে কিছু অসৎ ব্যক্তি থাকবে না, এটা ভাবাটা অস্বাভাবিক। অল্পকিছু মানুষের অসততা ও অপকর্মের কারণে পুরো ব্যবস্থাকে খারাপ ও কলুষিত বলা অনুচিত।

বেশির ভাগ মানুষের সততা, নিষ্ঠাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কিছু মানুষ পুরো জাতির ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সর্বোপরি, যারা আজকের পরীক্ষার্থী তারাই আগামীর ভবিষ্যৎ, তাদের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

এই লক্ষ্যে বিগত কয়েক বছর ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে আসছে। গত কয়েক বছরে ফেসবুকে মোবাইল নাম্বারসহ বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রশ্ন দেওয়ার ফাঁদ পেতেছিল।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট এই চক্রের ১০৯ জনকে গত ৪/৫ বছর গ্রেপ্তার করেছিল এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারা স্বীকার করেছে যে শুধু টাকা রোজগারের জন্য এই জঘন্য কাজ তারা করেছে। আমি সবাইকে বলতে চাই, এই ধরনের অপকর্মে যারা জড়িত হবে তাদের প্রত্যেককে আমরা আইনের আওতায় আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমাদের কয়েকটি টিম দিনরাত এদের গ্রেপ্তার করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

অসৎ পন্থা অবলম্বন করে সফল হওয়া থেকে সম্মানের সাথে হেরে যাওয়া বা একটু পিছিয়ে পড়া ভালো, সেক্ষেত্রে প্রস্তুতির অভাব রয়েছে বলে মনে হবে কিন্তু অসৎ পদ্ধতিতে জয়ের প্রচেষ্টা চরিত্রহীনতা প্রমাণিত করবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের কর্তব্য শিক্ষার্থীদের সামনে সৎ আদর্শ ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নিয়ে আবির্ভূত হওয়া যাতে তারা সে সব নীতি অনুসরণ করে সৎ চরিত্র গঠনে প্রয়াসী হয়।

সকলের মনে রাখা উচিত, প্রশ্ন ফাঁসকারীদের মতো প্রশ্ন সংগ্রহ করাও অপরাধ। যেকোনো উপায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণের জন্য তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তাই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উচিত প্রশ্ন ফাঁসের ফাঁদে না জড়ানো।

এ বছর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ভুয়া প্রশ্ন প্রচার ও বিতরণ রোধের জন্য প্রশ্নপত্র ছাপা, বিতরণ ব্যবস্থা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন কোচিং সেন্টারকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। আমাদের সাথে জনগণ সম্পৃক্ত হলে এই লক্ষ্য অর্জন ত্বরান্বিত হবে। সুন্দর আগামী বিনির্মাণে আসুন সবাই এক সাথে কাজ করি।

যেকোনো ধরনের গুজব, প্রশ্ন ফাঁসসংক্রান্ত তথ্য আমাদের জানাতে পারেন। মোবাইল নাম্বার ১০৭১৩৩৯৮৩৮৩ এ ছাড়াও আপনারা এ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ফেসবুক ইনবক্সে দিতে পারেন।

লেখক: যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম), ডিএমপি

সংবাদটি শেয়ার করুন

নির্বাচিত খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :