এসির গ্যাসে প্রাণহানি বাড়ছে

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:১০

বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পরিমাণ বাড়িয়ে তুলছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাস। এসিতে ব্যবহৃত গ্যাস আগুনে পুড়ে নতুন গ্যাস উৎপন্ন করে যা মানুষের শ্বাসষ্টের কারণ হয়। নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয় বলে আগ্নিকাণ্ডের সময় আটকা পড়া অনেকের প্রাণহানি ঘটে।

এসি নিয়ে কাজ করেন এমন কয়েকজন জানান, এসিতে সাধারণত দুই ধরনের গ্যাস থাকে। কোনো এসিতে ব্যবহার করা হয় আর-২২ গ্যাস, কোনোটিতে আর-৪১০। এই দুই ধরনের গ্যাসের কোনোটিই আগুন জ্বলতে সহায়তা করে না। তবে আর-২২ গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এলে নিজের রূপ পাল্টে উৎপন্ন করে নতুন গ্যাস। এটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তীব্র যন্ত্রণার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

আর-২২ গ্যাসের ঝুঁকি বিবেচনায় এসিতে এই গ্যাসের ব্যবহার কমে এসেছে। রেফ্রিজারেটর স্থাপন ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদপুরের বিসমিল্লাহ্ সার্ভিস সেন্টারের পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, বর্তমানে বাজারে আর-৪১০ গ্যাস আসছে বেশি। প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের এসিতে এখন এই গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে আর-২২ গ্যাস নতুন করে বাজারে তেমন না এলেও আগে থেকে প্রচুর রয়ে গেছে।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘আর-২২ গ্যাসে এমনিতেই সমস্যা আছে। আগুনে না পুড়েও যদি এই গ্যাস নিঃশ্বাসের সঙ্গে কারো শরীরে যায়, তাহলেও তার ক্ষতি হবে। আগুনে পুড়লে  অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়।’

একই রকম তথ্য জানান মোহাম্মদপুরের গ্রিন ভিউ হাউজিং এলাকার ঢাকা এসি সেন্টারের পরিচালক খোকন রাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা তো গ্যাস যে পুড়ে তা দেখি না। তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জানি গ্যাসটা মারাত্মক ক্ষতিকর। এসিতে গ্যাস ভরার সময় কোনোভাবে তা হাত বা শরীরের কোনো অংশে লাগলে সঙ্গে সঙ্গে সেই স্থান পুড়ে যায়। এই গ্যাস যদি কারো নাক-মুখ দিয়ে ঢোকে, তাহলে কী হতে পারে সেটা সহজেই   অনুমান করা যায়।’

আর-২২ গ্যাস পরিবর্তন করে সেখানে আর-৪১০ গ্যাস ব্যবহার করা যায় কি না জানতে চাইলে খোকন রাজ জানান, সুযোগ যে নেই তা নয়। তবে গ্যাস পরিবর্তন করতে চাইলে এসির কম্প্রেসার পরিবর্তন করতে হবে। আর তা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ।

একটি দুই টন বা ২৪ হাজার বিটিইউ আকারের এসিতে প্রায় দেড় কেজি পরিমাণ গ্যাস থাকে। অগ্নিকাণ্ডে এসি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর ভেতরে থাকা গ্যাস বের হয়ে আসে এবং তা বাতাসে অক্সিজেনের জায়গা দখল করে নেয়।

হেইজ বাংলাদেশের সহকারী প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন জানান, আর-২২ গ্যাসের কোনো এসি এখন বাজারে আসছে না। বর্তমানে নতুন করে যে এসিগুলো বাজারে আসছে তার অধিকাংশেই ব্যবহার করা হচ্ছে আর-৪১০ গ্যাস। তিনি বলেন, ‘আর-২২ ও আর-৪১০ গ্যাসের মধ্যে একটি পার্থক্য হলো আর-২২ একটি ভারী গ্যাস। এতে দাহ্য পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে।’

আর-২২ গ্যাসের দাহ্য পদার্থ পরিবেশের জন্যও ক্ষতি বয়ে আনে বলে জানান হেইজ বাংলাদেশের এই সহকারী প্রকৌশলী। এসি তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশ রক্ষা ও মানবস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এসির গ্যাস পরিবর্তন করেছে। তবে আর-২২ গ্যাস বাজার থেকে সম্পূর্ণ উঠে যেতে সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

পুরান ঢাকার চড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশন ও অভিজাত এলাকা বনানীর এফআর টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডে বেশির ভাগ প্রাণহানি হয়েছে শ্বাস বন্ধ হয়ে। দুই ক্ষেত্রেই গ্যাসের একটা বড় প্রভাব ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া বাতাসে থাকা অক্সিজেনের জায়গা দখলে নেয়। এ সময় এসি কিংবা অন্য কিছু থেকে নির্গত গ্যাস এক ভয়াবহ পরিবেশের সৃষ্টি করে বলে জানান গ্যাস বিশেষজ্ঞরা।

(ঢাকাটাইমস/৪এপ্রিল/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :