সমালোচনার জবাবে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক

ম্যাট বিছালে আরও বেশি মৃত্যু হতো

সিরাজুম সালেকীন
| আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১২:১৮ | প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:২০

বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন ছড়িয়ে পড়া এবং হতাহতের ঘটনায় বিশেষ করে আটকে পড়াদের বাঁচাতে ভবনের নিচে ম্যাট না বিছানোয় অনেকে ফায়ার সার্ভিসের সমালোচনা করেন। এর জবাবে বাহিনীটির পরিচালক মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেছেন, বনানীর আগুনের ঘটনায় যদি ভবনের নিচে ম্যাট দেওয়া হতো, তাহলে মৃত্যু ও আহতের ঘটনা দু-তিন গুণ বেড়ে যেত।

ঢাকাটাইমসের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন অগ্নিনিরাপত্তা বাহিনীর পরিচালক।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর ২২ তলা এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন নিহত হয়। এর মধ্যে কয়েকজন মারা যায় ওপর থেকে দড়ি বেয়ে নিচে নামার সময়। এভাবে নামতে গিয়ে আরও বেশ কজন আহত হয়। কেউ কেউ মনে করেন, নিচে ম্যাটের ব্যবস্থা করা হলে অনেকে বেঁচে যেতেন। এ নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সমালোচনা করছেন অনেকে।

জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসকে মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘সব সময় বলা হয় ফায়ার সার্ভিসের এটা দরকার ওটা দরকার। জনগণের এই সচেতনতা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। কিন্তু এই বাহিনীর বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তাতে আগুনে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা যায় যদি সবাই আগুন সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং ভবনমালিকরা অগ্নিনিরাপত্তা কোড মেনে চলেন।’

‘দেশের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এবং ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজটি করেন। তাই ভবনগুলো পুরোপুরি পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।’ এ ব্যাপারে তিনি লন্ডনের সাম্প্রতিক একটি অগ্নিকাণ্ডের উদাহরণ টানেন।

‘উন্নত দেশ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সম্প্রতি  একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনেক লোক মারা গেছে। আগুনে পুরো ভবন সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো ভবন কখনো এভাবে পুড়তে পারেনি। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেতরে গিয়ে আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ করি।’ বলেন মেজর শাকিল।

বনানীর ঘটনায় বলা হচ্ছে, ওপরে আটকে পড়া লোকজনকে কেন ১৬ তলার ওপর থেকে ম্যাটে লাফ দেওয়ানো হলো না। জবাবে মেজর শাকিল বলেন, ‘যারা এসব বলছেন তারা এ সম্পর্কে না জেনে সমালোচনা করছেন। একটা প্যারা জাম্প করতে দুই মাস প্রশিক্ষণ নিতে হয়। ঠিকমতো জাম্প দিতে না পারলে প্যারাসুটে পেঁচিয়ে মারাও যেতে পারে। আবার ল্যান্ডিং পজিশন ঠিক না হলে পা ভেঙে গুঁড়া হয়ে যাবে। এমনকি হাত ও কোমরও ভেঙে যাবে। সেখানে সরাসরি এত ওপর থেকে লাফিয়ে ম্যাটে পড়া কী রকম বিপজ্জনক সেটা সহজেই অনুমেয়।’  

ফায়ার সার্ভিসের যে ম্যাট আছে তা চার-পাঁচতলার উচ্চতা থেকে লাফ দেওয়ার উপযোগী বলে জানান মেজর শাকিল। বলেন, ‘বনানীর এফআর টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডে আমরা যদি এসব ম্যাট বিছিয়ে দিতাম তাহলে মৃত্যুর পরিমাণ দু-তিন গুণ বাড়ত। বিশ্বের কোনো দেশেই বড় বড় ভবনে অগ্নিকাণ্ডে কখনো ম্যাট বিছিয়ে কাউকে লাফ দিতে দেখা যায়নি।’

‘আমাদের দেশের ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ভবনমালিকদের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার বিষয়ে উদাসীনতা বড় কারণ।’ বলেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক, ‘দেশের ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ কোনো দল নেই। এমনকি পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাও নেই। সব সময় আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসকে দোষারোপ করার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু ভবন তৈরির যারা কারিগর ছিল তাদের কাছে জানা দরকার কেন এসব সুযোগ না রেখে এত বড় ভবন তৈরি করা হয়।’

বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফায় আগুন লাগার উদাহরণ দিয়ে মেজর শাকিল বলেন, ‘সেখান কোনো ক্রেন ব্যবহার করা হয়নি। কারণ ওই ভবনে অগ্নিনির্বাপন এবং সেখানকার লোকজনকে বের করে আনার সব ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আমাদের ভবনগুলোতে সেই রকম কিছু নেই।’

মেজর শাকিল কোথাও আগুন লেগে তা ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে দেরিতে খবর পাওয়ার কথা বলেন, ‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে হয়। সেটিও অনেক সময় দেরিতে করা হয়। অথচ আমরা সব সময় সব কাজের জন্য প্রস্তুত থাকি।’

‘নদীতে কেউ পড়লে তাকে উদ্ধার করি। বিড়াল আটকা পড়লে ছুটে যাই। বাড়িতে শেয়াল ঢুকলে উদ্ধার করি। মৌমাছি-ভিমরুল থেকে মানুষকে বাঁচাই। রাস্তায় গাছ পড়লে পরিষ্কার করি। তারপরও আগুনের ঘটনায় কেন আমাদের দেরিতে ডাকা হয়?’

ফায়ার সার্ভিসের বর্তমানে যে সক্ষমতা আছে তা কম নয় বলে জানান পরিচালক। সবাই যার যার অবস্থান থেকে নিজের কাজটি করলে সমস্যা অনেক কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/৪এপ্রিল/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :