ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিদেশগামীরা

বিমানভাড়া ও স্বাস্থ্যপরীক্ষার ফি কমানোর দাবি বায়রার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১৫

বিমানভাড়া ও বিদেশগামী কর্মীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষায় শতভাগ ফি বৃদ্ধি করার কারণে অভিবাসন ব্যয় বাড়ছে বলে দাবি করেছে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)।

মধ্যপ্রাচ্যগামীদের (শ্রমিক) বিমানভাড়া বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যপরীক্ষায় গামকার ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে এ ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনের বায়রা ভবনে জনশক্তি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন সংগঠনের সভাপতি বেনজীর আহমদ এমপি এবং মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান।

অভিবাসন ব্যয় কেন বাড়ছে- এক লিখিত বক্তব্যে বায়রা সভাপতি বলেন, অভিবাসন খরচ বাড়ার অন্যতম কারণ স্বাস্থ্যপরীক্ষার ফি বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বহির্গমন ছাড়পত্র, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সহ বিভিন্ন খাতে খরচ ও বিমানভাড়া দ্বিগুণ বৃদ্ধি।

বেনজীর আহমদ এমপি বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য মেডিকেল সেন্টারগুলোর সংগঠন গামকা সময়ে-অসময়ে মেডিকেল ফি বাড়িয়ে চলেছে। সম্প্রতি তারা আরো এক ধাপ মেডিকেল ফি বাড়িয়েছে। তারা মেডিকেল ফি ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার ৫০০ টাকা করেছে, এখন যা ১০ হাজারে গিয়ে পড়ে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিমানের টিকেট ৮০-১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ ১০টি বৈদেশিক এয়ারলাইন্স গত ২-৩ মাসের মধ্যে গমনাগমন বৃদ্ধি করে দিয়েছে। বিমান টিকেট বিক্রির ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট সক্রিয়। তাদের কারণে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি পায়। মাত্রাতিরিক্ত বিমানভাড়া বৃদ্ধি অভিবাসন ব্যয় আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বায়রার নেতারা বলেন, ২০১৩ সালে প্রণীত বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন অনুযায়ী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করে দেয় সরকার। সেই অনুযায়ী সৌদি আরব এক লাখ ৬৫ হাজার, মালয়েশিয়া এক লাখ ৪০ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা, আরব আমিরাত এক লাখ ৭ হাজার ৭৮০ টাকা, কুয়েত এক লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা, ওমান এক লাখ ৭৮০ টাকা, বাহরাইন ৯৭ হাজার ৭৮০ টাকা, সিঙ্গাপুর ২ লাখ ৬২ হাজার ২০০ টাকা এবং ব্রুনাই এক লাখ ২০ হাজার ৭৮০ টাকা টাকা অভিবাসন ব্যয়।

সরকার নির্ধারিত এসব অভিবাসন ব্যয় তুলে ধরে বায়রা সভাপতি বেনজীর আহমদ বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয় না। অভিবাসন ব্যয় কমাতে আমরা সচেষ্ট থাকি। কিন্তু, বিমানভাড়া বৃদ্ধি, মেডিকেল সেন্টারের স্বাস্থ্যপরীক্ষা ফি বৃদ্ধিসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ার কারণে অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধি পায়।’

অভিবাসন ব্যয় কমাতে বায়রা কয়েকটি সুপারিশ ও দাবি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে। তাদের দাবি, গামকা কর্তৃক অযাচিত মেডিকেল ফি বৃদ্ধি না করে যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে। বিমানভাড়া বৃদ্ধি রোধকল্পে ওপেন স্কাই পলিসি অতি দ্রুত ঘোষণা করা, যাতে যেকোনো এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে আসতে পারে এবং তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাদের যোগসূত্র না থাকলেও এর সব দায়ভার জনশক্তি ব্যবসায়ীদের ওপর চাপানো হয়- উল্লেখ করে বায়রা সভাপতি বলেন, ‘এমনকি ব্যক্তিপর্যায়ে অর্থাৎ আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে সংগৃহীত ভিসার দায়ভারও আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়।’

চিহ্নিত সমস্যাগুলোর যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ করতে চায় বায়রা। বেনজীর আহমদ এমপি বলেন, ‘এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিদেশে মানবসম্পদ পাঠানোর ক্ষেত্রে আমরা অসুবিধার সম্মুখীন হব। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব।’ এ  ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বায়রা মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, ‘আমাদের সরাসরি লোক ইনক্রুট করার সিস্টেম নাই। আমরাও চাই অভিবাসন ব্যয় কমাতে। কম পয়সায় বিদেশে কর্মী পাঠাতে। এ জন্য একটি সিস্টেমের মধ্যে আসা উচিত।’

মালয়েশিয়াসহ অনেক বাজার বন্ধ জানিয়ে বায়রা মহাসচিব বলেন, ‘সৌদি আরব ছাড়া বড় পরিসরে কোথাও লোক যাচ্ছে না। সেখানে লোক পাঠানোর পর আকামা হয় না। কর্মীর নামে ভিসা ইস্যু করা হলো, কিন্তু ওই এমপ্লয়মেন্টের সক্ষমতা আছে কি না সেটা সংশ্লিষ্টদের দেখা উচিত। কারণ একজন কর্মী যাওয়ার পর যখন আকামা হয় না, প্রতারিত হয়- তখন দায়টা আমাদের ওপরেই পড়ে।’

এক প্রশ্নের জবাবে বায়রা সভাপতি বলেন, ‘বিমানভাড়া ও স্বাস্থ্যপরীক্ষার ফি বাড়ানোর কারণে বিদেশগামীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।’

মতবিনিময় সভায় বিদেশগামী তথা শ্রমিকদের জন্য টিকিটে এয়ারলাইন্সগুলোতে ৩০ শতাংশ কোটা বরাদ্দের দাবি জানান কেউ কেউ।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বায়রার সিনিয়র সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম ফিরোজ, যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, অর্থ সম্পাদক শওকাত হোসেন শিকদার, পাবলিক রিলেশন সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী খোকন, কল্যাণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন মজুমদার, কার্যনির্বাহী সদস্য লিমা বেগম, বেলাল হোসাইন মজুমদার প্রমুখ।

সাংবাদিকদের মধ্যে রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্র্যান্ট (আরবিএম) সহসভাপতি হায়দার আলী ও সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকসহ জনশক্তি বিটের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/৯এপ্রিল/বিইউ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :