জেলেদের চাল কম দিয়ে চেয়ারম্যান বললেন ‘এটা সব খানেই হয়’

চাঁদপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ২৩:২৯ | প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ২৩:০৭

চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচরে জাটকা শিকারে বিরত থাকার বিপরীতে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণে ব্যাপক  অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ইউনিয়নে প্রায় আড়াই হাজার জেলেকে জনপ্রতি ৪০ কেজি চাল থেকে ৫-১০ কেজি করে কম দেয়া হয়েছে। তবে বিষয়টিকে অনিয়ম হিসেবে দেখছেন না অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ছাত্তার ঢ়ারি। তার ভাষ্য, ‘সব জায়গাতেই চাল কমবেশি করে বিতরণ করা হয়। এটা নতুন কিছু নয়।’

সূত্রে জানা গেছে, চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে ১৩ নং হানারচর ইউনিয়নের ১১ জন মেম্বার শনিবার সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

চাঁদপুর নৌ-সীমানায় ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে নোয়াখালীর চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। আর এ সময় জেলেদেরকে সরকার বিকল্প কর্মসংস্থান ও খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নে তৃতীয় পর্যায়ে ২হাজার ৩৮৭ জন জেলের মাঝে ইউপি চেয়ারম্যান সাত্তার ঢ়ারি ও সচিব জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করেন।

এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দু ছাত্তার রাঢ়ী, ট্যাগ অফিসার সুধির চন্দ্র পর্বত, ইউপি সচিব আব্দুল কুদ্দুছ রোকন ছাড়া অন্য কোনো ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
অভিযোগ উঠেছে, ইউপি সদস্যদের না রেখে চেয়ারম্যান নিজেই চাল বিতরণ করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান সবাইকে ৩০থেকে ৩৫ কেজি চাল বিতরণ করেন। 

অভিযোগের ব্যাপারে হানারচর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার আবুল কালাম কালু বলেন, ‘জেলেদের জাটকার চাল বিতরণের সময় এই ইউনিয়নের কোনো মেম্বার উপস্থিত ছিল না। মেম্বারদের অনুপস্থিতিতেই ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করেছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হানারচর ইউনিয়নের কয়েক ইউপি সদস্য  অভিযোগ করে বলেন, ‘জাটকার চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ৪০ কেজি জায়গায় মাত্র ৩০ কেজি চাল দিয়েছে। বাকি চাল বিক্রি করে ফেলছে। জাটকার চাল বিতরণে অনিয়ম হাওয়ায় ইউপি সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ইউপি চেয়ারম্যান তার মন মতো যা ইচ্ছা তাই করছেন। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হলে জাটকার চাল চুরির ঘটনাটি প্রমাণিত হবে।’

তবে ইউপি চেয়ারম্যান ছাত্তার ঢ়ারি সাংবাদিকদের বলছেন, চাল বিতরণের সময় সকল মেম্বাররা উপস্থিত ছিলেন। মেম্বার অনুপস্থিত থাকার অভিযোগকে তিনি ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন। তবে, চাল কমবেশি দেয়ার বিষয়টিকে তিনি স্বাভাবিক হিসেবে ধরতে চান। বলেন, ‘চাল বিতরণের সময় কম-বেশী দেওয়া এ ধরনের ঘটনা সব ইউনিয়নেই হয়ে থাকে। এটা নতুন কিছু না।’

এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, চাল বিতরণের বিষয়ে হানারচর ইউনিয়নের ১১ জন ইউপি সদস্য অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি আমি সরোজমিনে ঐ ইউনিয়নে গিয়ে তদন্ত করে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ঢাকাটাইমস/২০এপ্রিল/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :