স্তন ক্যানসার থেকে সাবধান

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:২০ | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:০৮

 

নারীদের অন্যতম আর একটি ক্যানসার হলো স্তন ক্যানসার। সারা বিশ্বের নারীদের প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত। বাংলাদেশেও প্রতি বছর প্রায় ২২ হাজার নারী নতুনভাবে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রায় ১৭ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে মৃত্যুবরণ করছে। যে কোনো বয়সের নারীই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে মাঝ বয়সি নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকিও বাড়ে। সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

জার্মান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার নারীর স্তন ক্যানসার নির্ণয় করা হয়, যার মধ্যে মারা যায় ১৭ হাজার। নারীদের অন্যান্য ক্যানসারের মধ্যে স্তন ক্যানসারেই হয় সবচেয়ে বেশি নারী। এতে মানুষ মারা গেলেও, এ ক্যানসার খুব মারাত্বক নয়। কারণ সময় মতো ধরা পড়লে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।

স্তন ক্যানসারের লক্ষণ

স্তনের চামড়ায় ভাজ, লাল হওয়া বা কুচকে যাওয়া, স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া কিংবা বৃন্ত থেকে রস ক্ষরণ হওয়া– স্তনে এ ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার। তবে সব টিউমার বা পরিবর্তনই যে ক্যানসারে রূপ নেয়, তা কিন্তু নয়!

মেমোগ্রাফি

‘মেমোগ্রাফি’ এমন একটি পরীক্ষা যাতে স্তনে একেবারে ক্ষুদ্র গিট, চাকা বা মাংসপিণ্ডের উপস্থিতি ধরা পড়ে। তাই সময়মতো মেমোগ্রাফি করানো প্রয়োজন। বিশেষকরে পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই এটা নিয়মিত করাতে হবে। তাছাড়া প্রত্যেক নারীরই বছরে অন্তত একবার স্ত্রী বিশেষজ্ঞের কাছে স্তন ও জরায়ু পরীক্ষা করানো উচিত।

নিজেই পরীক্ষা করুন

৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রত্যেক নারীর নিজেরই নিজের স্তন পরীক্ষা করা উচিত। এই পরীক্ষা করতে হবে ‘পিরিয়ড’ বা মাসিক হওয়ার ঠিক পরে, অর্থাৎ মাসে অন্তত একবার। স্তনের ওপর থেকে নীচে, নীচ থেকে ওপরে এবং এপাশ থেকে ওপাশ– নানাভাবে স্তন দুটি টিপে পরীক্ষা করতে হবে। বোঝার চেষ্টা করতে হবে স্তনের ভেতর শক্ত কিছু আছে কিনা। তবে স্তনে গিট, চাকা বা টিউমার আছে কিনা তা বোঝার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়াই স্রেয়।

ক্যানসারের জিন

স্তন ক্যানসার হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। তবে কারও পরিবারে মা, খালা, ফুপু বা দাদি-নানির স্তন ক্যানসার থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনটা হলে সেক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন। অর্থাৎ খামখেয়ালি না করে নিয়মিত ডাক্তারি চেকাআপ করানো আর পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার।

হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মা মারা যান স্তন ক্যানসারে। সেই জিন রয়েছে অ্যাঞ্জেলিনার শরীরে। আর সেজন্যই অ্যাঞ্জেলিনা স্তন ক্যানসারকে প্রতিরোধ করতে ‘মাস্টেকটমি’ বা স্তন ব্যবচ্ছেদ করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, অন্য মহিলাদের সচেতন করতে জানিয়েছেন তার নিজের অভিজ্ঞতার কথাও।

জার্মানির অন্যতম ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. কার্ল হাইৎস ম্যুলার বলেন, ‘গবেষকরা সবসময়ই ব্রেস্ট ক্যানসারের নতুন নতুন জিন খুঁজে পাচ্ছেন। তাই এর চিকিৎসাও নির্ভর করে স্তনের টিউমারের ধরণের ওপর। মেমোগ্রাফি ব্রেস্ট ক্যানসার নির্ণয় করার জন্য সবচেয়ে ভালো পন্থা। তবে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।’

প্রকৃতি নারীদের স্তনযুগল উপহার দিয়েছে, যাতে তারা শিশুদের দুধ পান করাতে পারেন। তাই অনেকের কাছেই স্তন নারীত্বের প্রতীক। তবে এই নারীত্ব ধরে রাখতে প্রয়োজন সচেতনতার। জার্মান ক্যানসার সমিতির করা এক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, প্রতিদিন আধঘণ্টা ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান না করা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ইত্যাদি করলে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ ক্যানসারের ঝুঁকি কমে।

পুরুষরা মনে করেন যে, স্তন ক্যানসার কেবল নারীদেরই হয়। তাই তারা এ ব্যাপারে মোটেই সচেতন নন। পুরুষদেরও স্তন ক্যানসার হয়, যদিও তা তুলনামূলকভাবে নারীদের চেয়ে অনেক কম। তাই পুরুষদেরও নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করানো উচিত।

ঢাকা টাইমস/২১এপ্রিল/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :