চলতি নদী এখন আর খাবার যোগায় না মানুষকে

সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:১৫

দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় এক সময়ের যৌবনবতী ধোপাজান-চলতি নদী তার পানিপ্রবাহ হারিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে পাহাড়িঢলের ভাঙনে গত ১০-১৫ বছরে তীরবর্তী মানুষের ফসলিজমি ও ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে হারাচ্ছে।

এর ওপরে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু-পাথর উত্তোলনে নদীর পানিপ্রবাহের পথ পাল্টে একাধিক পথে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে নদীর বুক ভরাট হয়ে ছোট-বড় অসংখ্য চর পড়েছে।

দুইপাড়ের লোকজনের অভিযোগ, এই নদী এক সময় ছিল স্বর্ণগর্ভা। কিন্তু প্রশাসনের নজদারি না থাকায় ও মানবসৃষ্ট কারণে ক্রমান্বয়ে এটির জৌলুস হারিয়ে যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর দুটি উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে বয়ে আসা ধোপাজান-চলতি নদী সুরমা নদীতে মিলিত হয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা নদীটির দুই পাশে রয়েছে ২০টিরও বেশি গ্রাম।সদর উপজেলার সদরগড়, অক্ষয়নগর, মুসলিমপুর, হুড়ারকান্দা, বালাকান্দা, সৈয়দপুর, সাহেবনগর, কাইয়ারগাঁও ও পূর্ব ডলুরা এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মনিপুরিহাটী, ভাদেরটেক, জিনারপুর, আদাং, রামপুর, পশ্চিম ডলুরা ইত্যাদি গ্রামের মানুষ বসবাস করে আসছেন নদীর পাড় ঘেঁষে।

শত বছর ধরে বর্ষায় তীরের স্থানীয় বাসিন্দারা ধোপাজান-চলতি নদীতে ভেসে আসা গাছ, লাকড়ি ও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। কিন্তু নদী ভরাটের কারণে এখন গাছ, লাকড়ি ও মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মানুষ দৈনন্দিন খরচ যোগাতে বালু-পাথর সংগ্রহের কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন। সেই বালু-পাথরও এখন পাচ্ছেন না তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ১০-১২ বছর ধরে বোমা মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলন করছেন। এতে এক শ্রেণির মানুষ লাভবান হলেও হাজার হাজার দিনমজুর বেকার হয়ে পড়েন। বছরের পর বছর ধরে বালু-পাথর উত্তোলনে নদীর পানিপ্রবাহের পথ পাল্টে একাধিক পথে রূপান্তর হয়। এ কারণে নদীর মাঝে মাঝেই চর জেগেছে।

জিনারপুর গ্রামের আজিম বলেন, নদীটি খনন করা হলে তীরের ভাঙন রোধ হবে। মানুষ জীবিকা নির্বাহের সঠিক স্থান খুঁজে পাবেন। নদীর মাঝপথে পানিপ্রবাহ সৃষ্টি হবে। এখন নদীর তীর ভেঙে তিনগুণ বড় হয়েছে। এই নদী খনন করা জরুরি।

মনিপুরী বাজারের ব্যবসায়ী নাদির বলেন, ধোপাজান-চলতি নদীতে পাহাড়িঢলের সঙ্গে এখন আর গাছ আসে না। মাছ নেই, বালু-পাথরও শেষ হয়ে গেছে। নদীর দুই পথে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙন ধরেছে তীরে।

ভাদেরটেক গ্রামের সাইফুল মিয়া ও ইসলাম উদ্দিন বলেন, নদীর মূল গতিপথ হারিয়ে এখন পানিপ্রবাহের একাধিক পথ সৃষ্টি হওয়ায় তীরে মানুষের ফসলিজমি, ঘর-বাড়ি বিলীন হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে নদীর তীরে দিন দিন ভাঙন বাড়ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি নদীখননের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২-১ মাসের মধ্যেই খননকাজ শুরু হবে। তখন সবাই উপকৃত হবেন।

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/প্রতিবেদক/এআর)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :