ফুফুকে মা ডাকায় বাবা-মা নির্যাতন করছিলেন মেয়েকে!

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:২১

চার বছরের শিশু আশামনিকে দুই দিন ধরে অনাহারে রেখেছিলেন তারই বাবা-মা। খেতে চাইলেই মারধর করছিলেন তারা। সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে গুরুতর আহত আশামনি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।

জন্মের পর থেকে ফুফুর কাছে থাকায় অবুঝ শিশুটি তাকেই মা বলে ডাকায় ক্ষিপ্ত বাবা-মা প্রায়ই কারণে-অকারণে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নির্দয়ভাবে শিশুটিকে মারধর করায় পাষণ্ড বাবা আশরাফুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন গ্রামের লোকজন । মা ফাতেমা বেগমকে পুলিশ আটক না করলেও দুজনেরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

নিজের শিশুসন্তানকে অমানবিক এ নির্যাতনের ঘটনাটি উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের মাদারটারি গ্রামের।

আশরাফুল আলম ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তার বড় ভাই ও শিশুটির জ্যাঠা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আশরাফুল ও তার স্ত্রী ফাতেমা  জন্মের পর আশামনিকে তার ফুফু আমার বোনের কাছে রেখে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। বাড়ি ফিরে এসে মেয়েকে তাদের কাছে ফিরিয়ে নিলেও সে তার ফুফুকেই মা বলে ডাকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবা-মা আশামনিকে প্রতিনিয়ত শিশুটিকে মারপিট করছিলেন। বহুবার আমি তাকে অনুরোধ করার পরও ক্ষান্ত হননি।`

গ্রামের লোকজন জানান, ঠুনকো এক ঘটনায় আশরাফুল-ফাতেমা মারধর করে দুইদিন ধরে অনাহারে রাখেন তাদের মেয়েকে। সোমবার সকাল থেকে ক্ষুধার্ত আশামনি খেতে চাইলে আবারও তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে দুপুরে খাবার জন্য ছটফট শুরু করলে বাবা-মা শিশুটির মুখ বেধে বেধড়ক মারপিট শুরু করেন। আশপাশের বাড়ির লোকজন তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করলেও শিশুটিকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।

একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা আশামনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং পাষণ্ড বাবা-মাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।পরে পুলিশ আশরাফুলকে থানায় নিয়ে আসে।

হাসপাতালের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, ‘কোনো বাবা-মা নিজের সন্তানকে এভাবে নির্যাতন করতে পারেন, তা কোনোদিন দেখিনি। শিশুটির চিকি’সা চলছে।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শিশুটির বাবা অভিযুক্ত আশরাফুল আলমকে আটক করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/প্রতিবেদক/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :