১১ দফা দাবিতে অনশনে রানা প্লাজায় আহত শ্রমিকরা

প্রকাশ | ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০৮ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেককে ৪৮ লাখ টাকা প্রদান, পুনর্বাসন, আজীবন চিকিৎসা সেবা, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ১১ দফা দাবিতে অনশন শুরু করেছে সাভারে বহুতল ভবন ধসে পড়া রানা প্লাজায় আহত শ্রমিক কর্মচারীরা।

সোমবার দুপুর থেকে রানা প্লাজা সার্ভাইবারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর ব্যানারে এ কর্মসূচি শুরু করেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভবন ধসের স্থানে আহত, নিহত ও নিখোঁজদের স্মরণে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোমবাতি প্রজ্জলন এবং দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রানা প্লাজা সার্ভাইবারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি অনশনরত মাহমুদুল হাসান হৃদয় ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘১১ দফা দাবি আদায়ের জন্য আমরা অনশন শুরু করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হবে ততক্ষণ আমরা এখান থেকে সরব না, অনশন চালিয়ে যাবো।’

এই রানা প্লাজায় আমি জীবনের সবকিছু হারিয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভবন ধসের ঘটনায় আমি পঙ্গু হওয়ায় হাঁটতে পারছি না। অনেক ওষুধ খেতে খেতে এখন ওষুধ দেখলে ভয় লাগে। প্রশ্রাবে ইনফেকশনসহ বুকে এবং পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া করে। অর্থের অভাবে দুই বেলা দুই মুঠো পেট ভরে খেতে পারি না।’

‘দাবি আদায়ে রানা প্লাজার সামনে এলে আমাদের দাঁড়াতে দেয়া হয় না। গতকালও রানার লোকজন এসে আমাদের হুমকি দিয়ে গেছে। কালু নামে একজন নিজেকে রানার লোক পরিচয় দিয়ে আমাদের উঠে যেতে বলে, নইলে মেরে গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছে।’

ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের কোনো অনুদান দেয়নি। বিভিন্ন সংস্থা সহায়তার নামে আমাদেরকে নিয়ে ব্যবসা করেছে। নামমাত্র যা অনুদান পেয়েছিলাম যা চিকিৎসার পেছনে খরচ হয়ে গেছে।’

আহত এই শ্রমিক বলেন, ‘রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক শ্রমিক ও তার স্বজনেরা ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া যাদের কারণে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটলো সেই ভবন মালিকসহ জড়িতদের বিচারকার্য বিলম্বিত করা হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই এবার রানা প্লাজার ছয় বছর পূর্তি উপলক্ষে ধসে পড়া ভবনের সামনে অনশন করছি।’ অনশনরত মাহমুদুল হাসান হৃদয় রানা প্লাজার অষ্টম তলায় নিউ স্টাইল লিমিটেড কারখানায় কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি পৌর এলাকার ছায়াবিথী মহল্লায় একটি ফার্মেসি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ব্যানারে উল্লেখিত ১১ দফা দাবিগুলো হচ্ছে- রানা প্লাজার সব ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ৪৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, আজীবন চিকিৎসা সেবা প্রদান, জাতীয় রানা প্লাজা শোক দিবস ঘোষণা, আহত, নিহত ও নিখোঁজদের বাচ্চাদের লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহণ, আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, উদ্ধারকর্মীদের চিকিৎসা প্রদান, রানা প্লাজার স্থানে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, আহত নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান এবং রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চাকরি দিতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৩এপ্রিল/আইআই/জেবি)