বাসচাপায় আবরার নিহতের মামলায় চার্জশিট

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ২০:১৮
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহতের মামলায় ঘাতক বাসের মালিক ননী গোপাল সরকার ও কন্ডাক্টর মো. ইয়াছিন আরাফাতের বিরুদ্ধে আদালতে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

গতকাল বুধবার ঢাকা সিএমএম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর কাজী শরিফুল ইসলাম।

দণ্ডবিধির ২৭৯  ও ৩০৪ ধারায় এ চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ৩০৪ ধারার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।  

অন্যদিকে আবরারকে চাপা দেয়ার আগে বাসটি মিরপুর আইডিয়াল ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মোসা. সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে চাপা দিয়ে আহত করে। ঘটনায় একই মামলায় পৃথক একটি চার্জশিটও দাখিল করেছেন ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা।

ওই চার্জশিটে আবরার নিহতের চার্জশিটের দুজনসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর দুজন হলেন, ঘাতক বাসের চালক মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে মিরাজ (২৪) এবং চালকের সহকারী মো. ইব্রাহিত হোসেন (২১)। এ চার্জশিটটি দণ্ডবিধির ২৭৯ ও ৩৩৮-(ক) ধারায় দাখিল করা হয়েছে। ৩৩৮ (ক) ধারায় রাস্তায় বেড়রোয়া গাড়ি চালিয়ে আহত করার শাস্তি দুই বছর পর্যন্ত এবং ২৭৯ ধারায় রাস্তায় অবহেলার সঙ্গে গাড়ি চালানোয় কোনো ব্যক্তি আহত বা জখম হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মামলার চার্জশিটে বলা হয়, বাস মালিক ননী গোপাল বাসটি কেনার সময় ৪৫ আসনের ছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি তা ৪৯ আসনে বর্ধিত করেন। বাসটি ঢাকার মহাখালী টু বি-বাড়িয়া রুটের হলেও তিনি তা সুপ্রভাত পরিবহন রুটের সভাপতি মো. সালাউদ্দিন ও সেক্রেটারি মো. আশরাফকে ম্যানেজ করে সদরঘাট টু গাজীপুর রুটে চালাতেন। সুপ্রভাত পরিবহনের ব্যানারে বাস চালাতে সভাপতি ও সেক্রেটারির নিয়োজিত ব্যক্তিকে দৈনিক এক হাজার ৩০ টাকা করে জমা দিয়ে বাসটি চালাতে হতো।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, ঘাতক বাসটি যান্ত্রিক সব বিষয়ে সঠিক ছিল। বাসটির প্রথম মালিক ছিলেন জনৈক আমিরুজ্জামান আরজু। তিনি ২০০৮ সালে বাসটি কিনেন। পরে দালাল রোকনুজ্জামানের মাধ্যমে ননী গোপালের কাছে ২০১৫ সালের বিক্রয় করেন।

আরও বলা হয়, চালকের যে লাইসেন্স ছিল তা হালকা ধরনের। যা ৪৫/৪৯ সিটের বাস চালানোর নয়। বাসটির রুট পরিবর্তন করে সদরঘাট টু গাজীপুর রুটে টাকার বিনিময়ে চালাতে দেয়ার সুযোগ তৈরি করা দেয়ার জন্য রুটের সভাপতি সালাউদ্দিন ও সেক্রেটারি আশরাফের বিরুদ্ধে রুট পারমিট বাতিলসহ অন্যান্য উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

চার্জশিটে বলা হয়, ননী গোপাল সরকারের ঘাতক বাসসহ চারটি বাস রয়েছে। চালক সিরাজ ও কন্ডাক্টর ইয়াছিন দুই বছর করে তার সঙ্গে কাজ করছেন। সিরাজকে হালকা লাইসেন্স পাইয়ে দিতে তিনি সহযোগিতা করেন। চলতি বছর ১ মার্চ দৈনিক তিন হাজার টাকা দেয়া চুক্তিতে চালক সিরাজ ও মোতালেব বাসটি বুঝে নেয়। গত ১৮ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি মোতালেবের কাছ থেকে সিরাজ ১৯ মার্চ চালানোর জন্য বুঝে নেয়। বুঝে নেয়ার পর সিরাজ, ইয়াছিন ও ইব্রাহিম এক সঙ্গে বসে গাঁজা খয়ে বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকে। পরদিন ১৯ মার্চ সদরঘাটের ভিক্টোরিয়া পার্ক হতে সকাল ৬টায় ৬/৭ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি গাজীপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। বাসটি গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর বাশতলা অতিক্রমের সময় অন্য একটি বাসের সঙ্গে পাড়া-পাড়ি করে যাত্রী তুলতে গিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা মিরপুর আইডিয়াল ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে ধাক্কা দেয়। ওই ঘটনায় মুক্ত রাস্তায় পড়ে গড়াগড়ি খেয়ে আহত হয়। তখন বাসের যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে চালক সিরাজকে মরধর করে ট্রাফিক পুলিশের কাছে তুলে দেয় এবং যাত্রীরা নেমে যায়। তখন কন্ডাক্টর ইয়াছিন মালিক ননী গোপালকে ফোন দিয়ে ঘটনা জানালে তিনি ইয়াছিনকে বাসটি চালিয়ে দ্রুত বিশ্বরোডে নিয়ে আসতে বলেন। মালিকের নির্দেশ পেয়ে লাইসেন্স না থাকার পরও সে দ্রুত বাসটি নিয়ে পালিয়ে আসার সময় যমুনা ফিউচার পার্কের কাছে রাস্তার উপর নর্দ্দার আইকন টাওয়ারের সামনে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার আহাম্মেদ চৌধুরীকে চাপা দিয়ে  হত্যা করে। এরপর ট্রাফিক পুলিশ বাসটি আটকের জন্য পিছু নিলে কন্ডাক্টর ইয়াছিন একটু সামনে বাসটি ফেলে পালিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, ওই ঘটনায় নিহত আবরারের বাবা বি. জে. (অব.) আরিফ আহমেদ চৌধুরী ঘটনার দিনই মামলাটি দায়ের করেন।

(ঢাকাটাইমস/২৫এপ্রিল/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :