ববিতে অনশন: অসুস্থ হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে

ব্যুরো প্রধান, বরিশাল
 | প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৫

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এসএম ইমামুল হকের অপসারণের দাবিতে বুধবার থকে শুরু করা আমরণ অনশন বৃহস্পতিবারও চলছে। ১৩ জন শিক্ষার্থী ও চারজন শিক্ষক এই কর্মসূচিতে আছেন। বুধবার উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে আজ অপসারণের দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে আমরণ অনশনরত দুই শিক্ষক ও ছয় শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে দুই শিক্ষককে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে অসুস্থ ছয় শিক্ষার্থীকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে।

আজ দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অনশনরত শিক্ষার্থীরা প্রচ- গরম এবং অনশনের প্রায় ৩০ ঘণ্টা পার হওয়ায় তাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাঁদের স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। অনশনে যোগ দেননি এমন শিক্ষার্থীরা তাদের সেবা করছেন।

এদের মধ্যে শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি সরদার কায়সার আহমেদ ও ইংরেজি বিভাগের সহকারিী অধ্যাপক মিজানুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তনুশ্রী দত্ত, মো. মারুফ, মো. ইব্রাহিমসহ ছয়জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদেরকে চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী গতকাল বেলা ১১টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু করেন। ওই দিন সকাল থেকেই বেশ কয়েকজন শিক্ষক এই আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তারা যোগ দেননি। রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভূতত্ত্ব, খনি বিভাগের চেয়ারম্যান আবু জাফর মিয়া, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরদার কায়সার, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় সরকার, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে যোগ দেন।
অনশনরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলেন, উপাচার্যের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম ও বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছিল।

দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, অপমান, দুর্ব্যবহার, মানসিক নিপীড়ন ও চরম বৈষম্যের কারণে আজ ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এটা একদিনের ক্ষোভ নয়। এটা উপাচার্যের অপশাসন, স্বৈরাচারী মনোভাব, খারাপ আচরণ, ছাত্র-ছাত্রীদের কারণে-অকারণে তাচ্ছিল্য ইত্যাদির ফল। তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশন চলবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বলেন, ‘এত দিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আমরা উপাচার্য এস এম ইমামুল হকের পদত্যাগ অথবা পূর্ণ মেয়াদে ছুটিতে যাওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছিলাম। কিন্তু এখন আমরা এই দাবি থেকে সরে এসে তার অপসারণ না করা পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব।

প্রক্টর সুব্রত কুমার সাহা আজ দুপুরে বলেছেন, ‘আমরা কেউ লিখিতভাবে পদত্যাগ করিনি। শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আমাদের পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মাস ধরে অচলাবস্থা চলছে। আমরা পদত্যাগ করলে যদি সেই অচলাবস্থার নিরসন হয়, তবে করব।’

উপাচার্যের পদত্যাগ বা অপসারণ দাবির সঙ্গে একাত্মতা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সুব্রত সাহা বলেন, ‘বিষয়টি এমন নয়। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসন হোক। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উভয়ের প্রতিই আমাদের দায়িত্বের জায়গা থেকে এটা বলেছি।’

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য জানতে আজ দুপুরে ঢাকায় থাকা উপাচার্য এস এম ইমামুল হকের মুঠোফোনে ফোন করলে এক ব্যক্তি ফোন ধরে বলেন, ‘স্যার ব্যস্ত আছেন’ এই বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার প্রতিবাদে ওই দিন সকাল থেকেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য ওই অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হন। পরে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অনুষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে ২৭ মার্চ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে মন্তব্যের জন্য উপাচার্য দুঃখ প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করলেও শিক্ষার্থীরা হল ছাড়েননি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাজনৈতিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকে হলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ওই দিনই তা প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে অনড় থাকেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ১১ এপ্রিল ১৫ দিনের জন্য ছুটিতে যান উপাচার্য এসএম ইমামুল হক। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাঁর এই ছুটি মঞ্জুর করেন। উপাচার্য এস এম ইমামুল হকের চার বছরের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৭ মে।

ঢাকাটাইমস/২৫এপ্রিল/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :