অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

বগুড়া প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৪০

বাংলাদেশে অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া জেলা সাইবার পুলিশের একটি টিম। হবিগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর জেলায় টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতাসহ আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, ১৬টি মোবাইল, ২০টি মোবাইলের সিমকার্ড ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত দুটি ওয়েবসাইট উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞা সংবাদ সম্মেলনে তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানান।

বগুড়ার সাইবার পুলিশের পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে গত ২৩ ও ২৪ এপ্রিল চক্রের মূলহোতা আহসান হাবিব ওরফে শাহ মো. তানিমকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে। সে হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার আন্দিউড়া গ্রামের মৃত শাহ মোহাম্মদ হিরণের ছেলে। একই গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া ওরফে কাজী সোহেল ও লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার বামনী গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মারুফ হোসাইন ওরফে মারুফ বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। প্রত্যেককে তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঁঞা বলেন, অনলাইনে যেসব ডিজিটাল মুদ্রা পাওয়া যায় সেগুলোকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বলে। এই ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রানজেকশনের সময় আদান-প্রদানকারীদের তথ্য গোপন থাকে। বেশিরভাগ সময়েই থাকে অজ্ঞাত। এ ধরনের মুদ্রার বিনিময়ে ব্যবহার করা হয় ক্রিপ্টোগ্রাফি নামের একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রচলিত ভাষা বা সংকেতের লেখা তথ্য এমন একটি কোডে লেখা হয়, যা ভেঙে তথ্যের নাগাল পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে বাংলাদেশে এ সকল ক্রিপ্টোকারেন্সি জুয়া খেলা বা কালো টাকাকে সরকারের চোখ থেকে লুকানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
তিনি বলেন, এই চক্রটি দুটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশে যেসব ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ দীর্ঘদিন যাবৎ সেগুলো লেনদেন করে আসছিল। কিন্তু এদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ। বাংলাদেশে অবৈধ এসব ক্রিপ্টোকারেন্সির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান বিটকয়েন। অনেকেই তাই বেশি লাভের আশায় বিটকয়েন কিনে রেখে দাম বাড়লে বিক্রির আশায় এই ব্যবসায় ঝুঁকছে।

আলী আশরাফ ভুঁঞা আরও জানান, বিপিএল এবং আইপিএল এর সময় ইবঃ৩৬৫সহ আন্তর্জাতিক অনলাইনে জুয়ার আসরে অংশ নিতেও বাংলাদেশ থেকে এসব ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচার হিড়িক পড়ে যায়। এছাড়া এসব ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ডার্কওয়াভসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিশে^র যে কোন প্রান্তে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন করা হয়। যেসব অর্থ দ্বারা অপরাধ সংঘটনের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

গ্রেপ্তাররা তাদের ওয়েব সাইট দুটির মাধ্যমে অনলাইন ওয়ালেট হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তাদের গ্রাহক সংখ্যা গত ৫-৬ মাসে সাত হাজার ৩৬২ জন এবং এ পর্যন্ত তারা ২৭ হাজার ৮শ’রও অধিক এক্সচেঞ্জ সম্পন্ন করেছে। তাদের কাছ থেকে বিকাশ, রকেট এবং কিছু মোবাইল ব্যাংকিংয়ের একাউন্ট পাওয়া গেছে। গ্রাহকদের সাথে এসব মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন করত। অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনের টাকা তারা এসকল একাউন্টে জমা রাখত। অনেক সময় গ্রাহকের টাকা নিয়ে কারেন্সি না দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে। এছাড়া এই চক্রের সাথে আরো বেশ কয়েকজন জড়িত বলে তারা জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৬ এপ্রিল/টিএ)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :