স্পেনে নির্বাচন: কাতালুনিয়া ইস্যুতে একে অপরকে দোষারোপ

ওয়াসি উদ্দিন, স্পেন
 | প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৮

২৮ এপ্রিল স্পেনের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে অন্যসব কিছু বাদ দিয়ে কাতালুনিয়ার স্বাধীনতার ইস্যুটিই হয়ে উঠেছে মূল বিতর্কের বিষয়। গত ২১ এপ্রিল রবিবারের টেলিভিশন বিতর্কেও এ নিয়ে মুখোমুখি হন প্রধান চার প্রার্থী। পুরো বিতর্কেই বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বামপন্থি সোশ্যালিস্ট দলের পেদ্রো সানচেজের বিরুদ্ধে দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করার অভিযোগ এনেছেন রক্ষণশীল পিপলস পার্টির নেতা পাবলো কাসাদো এবং মধ্য-ডানপন্থি সিউদাদানোস দলের আলবার্ট রিভেরা। আগাম জরিপে এগিয়ে থাকলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সানচেজের পক্ষে নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কাসাদো বলেন, ‘পেদ্রো সানচেজের সোশ্যালিস্ট সরকারের কারণে স্পেনের একতা আজ হুমকির মুখে। যারা স্পেনকে ভেঙে ফেলতে চায়, তাদের প্রিয় নেতা সানচেজ।’

আলবার্ট রিভেরা ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘স্পেনকে যারা ডুবাতে চায়, তাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দিতে চান?’

কাতালুনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা কিম তোরার সঙ্গে সানচেজের বৈঠকের একটি ছবি দেখিয়ে নিজের যুক্তি প্রমাণের চেষ্টাও চালান রিভেরা।

পুরো বিতর্কেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কাতালুনিয়া তথা অন্যান্য পরিস্থিতি নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭০ সালে গণতন্ত্রে ফেরার পর এবার সরকার গঠন করতে কোনো দলের প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ এবং সংবেদনশীল কাতালুনিয়ার প্রদেশটির স্বাধীনতাকামী দলগুলোর জোরালো অবস্থানের ইস্যুতে এবারের নির্বাচনে দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিভক্তি বয়ে আনবে।

কাতালুনিয়ার স্বাধীনতা প্রশ্নে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে এক গণভোটের আয়োজন করে কাতালুনিয়া। কিন্তু স্পেনের আদালত সে গণভোট অবৈধ ঘোষণা করে। একপাক্ষিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে স্পেনের কাতালুনিয়া প্রদেশটির স্থানীয় সরকার।

শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার ঘোষণা কার্যকর করতে না পারলেও স্পেনের রাজনীতিতে এখনো রয়েছে এর প্রভাব। ফলে কাতালুনিয়া ইস্যুতে পরবর্তী কয়েক বছর কী হতে যাচ্ছে তা জানতে পুরো স্পেনবাসী অপেক্ষায় আছে রবিবারের নির্বাচনের জন্য।

গত বছর জুনে সংবিধানের ‘মোশন দে সেনসুরা’ আইনে প্রধানমন্ত্রী হন সানচেজ। কাতালানদের স্বাধীনতার বিপক্ষে থাকলেও পূর্বসুরী রক্ষণশীল মারিয়ানো রাখইয়ের চেয়ে কাতালান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে অপেক্ষাকৃত উদারতা দেখিয়ে সমঝোতার জন্য সানচেজ সরকার কাতালান সরকার কিম তোর্রার সাথে নানান বৈঠক করে।

সানচেজের নেতৃত্বে সোশ্যালিস্টরা এগিয়ে আছেন বলে দেখা গেছে নানান জরিপে। কিন্তু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো পর্যাপ্ত আসন তারা নাও জিততে পারে। পোদেমোস পার্টির সঙ্গে সমঝোতাও এক্ষেত্রে তাদের আসন পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে কাতালুনিয়ার স্বাধীনতাবাদী দলের সঙ্গেও সমঝোতায় যেতে হতে পারে সোশ্যালিস্ট পার্টিকে।

অন্যদিকে অপর তিন ডানপন্থি দলের জন্য সরকার গঠন করা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। একাধিক মতামত জরিপে মানুষ সোশ্যালিস্টস এবং সিউদাদানোস দলের মধ্যে জোট দেখতে চেয়েছেন। রিভেরা ২১ ও ২২ এপ্রিলের টেলিভিশন বিতর্কে এ সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করে দেন। তবে সানচেজ তাদের সাথে জোটের বিষয়ে কোন মন্তব্য ব্যক্ত করেননি।

অনেকের মতে, চার দশক পর এবারই প্রথমবারের মতো ভক্স নামে চরম ডানপন্থি দলটি দেশটির পার্লামেন্টে ভাল আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ দলটি ২০১৩ সালে গঠিত হয়েছিল। তাদের অবশ্য বিতর্কের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

তবে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন এমন ভোটারের সংখ্যাও অনেক। ফলে নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপের ফল যেকোনো সময় পাল্টে যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

(ঢাকাটাইমস/২৬এপ্রিল/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :