দৌড়ে এবার আমরাও!

প্রকাশ | ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪১ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৩৬

মনদীপ ঘরাই

কত কত রাত জেগে অলিম্পিকে উসাইন বোল্টকে স্বর্ণপদক জিততে দেখেছি। আর মনে মনে ভেবেছি, ইস! যদি আমরাও পারতাম।

অলিম্পিকের স্বল্পদৈর্ঘ্যের পরিসরে ওই ভাবনা পর্যন্তই থেমে যেতে হয়েছে। পদক তো দূরে থাক, মূল পর্ব পর্যন্ত গিয়েছিলেন মাত্র একজন। মোহাম্মদ হোসেন মিলজার। সিউল অলিম্পিকের ৪০০ মিটার দৌঁড়ে। হঠাৎ এসব হিসাব টানছি কেন?

কারণটা; অন্যরকম এক দৌঁড়। পূর্ণদৈর্ঘ্য বিদেশী সিনেমার টিকেট পাবার জন্য স্বল্পদৈর্ঘ্যের এক রূদ্ধশ্বাস দৌঁড়। কে দিলেন? কখন দিলেন? পদক পেলেন তো?

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির সামনে অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ড গেমের টিকেট সংগ্রহ করতেই দৌঁড় দিয়েছেন শত শত লোক। লক্ষ্য? সবার আগে গেট পর্যন্ত পৌঁছা।

ভিডিওটা দেখেছি। একবার নয়। বারবার দেখেছি। দৌঁড়ের ইভেন্ট সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেখার অনুরোধ করছি। এত মানুষকে ক্রিকেট-ফুটবলের বাইরে কোন ইভেন্টে কি স্বত:স্ফুর্তভাবে কি সমৃক্ত করা গেছে? কেউ বাধা পেরিয়ে হার্ডলস দৌঁড় দৌড়ালেন, কেউ বা ১০০ মিটারের বোল্টের গতিতে আবার কেউ বা হেলেদুলে ম্যারাথনের স্টাইলে।আর পদক?

যে পদকের জন্য দৌঁড়েছিলেন, তা ছিল এন্ড গেমের টিকেট। অনেকেই টিকেট পেয়েছেন। আর বাকিদের গেম এন্ড হয়ে গেছে টিকেট না পেয়ে।

এই দৌঁড়টা দিল কারা? ভয় পাবেন না। এলিয়েন না। আপনার-আমার চেনা অচেনা কিন্তু ঢাকাবাসী কিছু মানুষেরাই। বিশ্বাস হয় না? একটু চিন্তা করে দেখুন। ওনাদের আগেও দেখেছেন। ডিম দিবসে হুড়োহুড়ি করে ডিম সংগ্রহে, কিংবা লিফটের সামনে লাইন না ধরে মৌচাকের মতো জটলা বাঁধাতে, কিংবা ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে হুংকার ছাড়তে।

উদাহরণগুলো বেখাপ্পা লাগছে? এদের সবার অসুখ একটাই। অস্থিরতা।

সারাবিশ্ব কাঁপানো সিনেমার টিকেটের জন্য তো এটুকু করাই যায়, তাই না? অন্যদেশ ও কি করছে?

ঠিক এভাবে না। চীনে এক নারী সিনেমা দেখে আবেগতাড়িত হয়ে হাসপাতালে গেছেন। আর ইউএস্এ তে অনলাইন টিকেট প্রি বুকে লেগেছিল ভার্চুয়াল জট। আর আমাদের তো সবটাতেই একটু বেশি বেশি। তাই… লাগাও দৌঁড়।

বিষয়টা বেখাপ্পা লাগে। যে দেশে দর্শকের অভাবে বন্ধ হচ্ছে সিনেমা হল, সে দেশে কিনা এমন উন্মাদনা! তাহলে দেশী ছবিতে সমস্যাটা কোথায়? সমস্যা তেমন একটা চোখে পড়ে না। সম্প্রতি ঢাকা অ্যাটাক, আয়নাবাজি, দেবী,হাসিনার মত দর্শক টানতে পেরেছে যথেষ্ট। কিন্তু, এমন দৌঁড়ের উন্মাদনা চোখে পড়েনি।

এই উন্মাদনার কারণ তাহলে গ্লোবাল। বিশ্বব্যাপী ট্রেন্ড চালু হলেই না তৈরি হবে এমন উন্মাদনা। এতে কি বাড়ছে দেশের সম্মান? হচ্ছে শুভ কিছু?

মোটেও না। হচ্ছে আসলে উল্টোটা।তারুন্যের অসুস্থ্য প্রবৃত্তি ফুটে উঠছে স্পষ্টভাবে।তবে হ্যাঁ। দৌঁড়ে ওসব পদক-টদক আনতে পারুক আর না পারুক, এন্ডগেমকে কোটি টাকার ব্যবসা তো দিতে পেরেছে তারা সবাই মিলে! এবার তাহলে অপেক্ষা করি। এই শত শত দৌঁড়বিদের কোন না কোন একজন টিকেট পাওয়ার পরেও হয়তো ভেবে বসবে।

“ না দৌঁড়টা তো ভালই পারি।“

তাহলে, সামনের অলিম্পিকে স্বপ্ন দেখতে দোষ কোথায়? দৌঁড়ে এবার হয়তো আমরাও…..।

লেখক: সিনিয়র সহকারী সচিব, বাংলাদেশ সরকার