ইংরেজি শিক্ষায় নজর দিতে হবে স্কুল পর্যায়ে

অনলাইন ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ০১ মে ২০১৯, ২০:২৩

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) ফ্যাকাল্টি অব আর্টসের ডিন প্রফেসর সৈয়দ আনোয়ারুল হক এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। এখনো তিনি ইংরেজি পড়ান। বিগত চার দশকের অভিজ্ঞতার আলোকে ইংরেজি সাহিত্য শিক্ষণ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। আলাপচারিতায় ছিলেন জিসান আল যুবাইর

ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়নের মাধ্যমে কী কী দক্ষতা অর্জিত হয়?

ইংরেজি অধ্যয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যারিয়ারকে সুন্দরভাবে গুছাতে পারে। বর্তমান বিশ্বে ইংরেজি প্রধান আন্তর্জাতিক ভাষা। তাই ইংরেজি জানা তরুণ-তরুণীদের চাকরি পেতে বেশ সুবিধা হয়। চাকরি চলে গেলে নতুন কর্মসংস্থানে তেমন বেগ পেতেও হয় না।

বাংলাদেশে ইংরেজি সাহিত্যে গবেষণা সম্পর্কে বলুন

অন্য বিষয়ের চেয়ে এখানে গবেষণা কঠিনই বটে। তবুও দেশের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানচর্চাকেন্দ্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে। আমি মনে করি ¯œাতক পর্যায়ের ইংরেজি শিক্ষা শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলে মন্দ হয় না।

পাঠদানের ভাষা ইংরেজি হওয়ায় কোনো সমস্যা হয় কি না? এতে বাংলাভাষার মর্যাদাহানি ঘটে বলে মনে করেন কি?

ইংরেজি এখন বৈশ্বিক ভাষা। এটিই বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে কখনো এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। বিশ্বের উন্নয়নের অংশীদার হতে গেলে ইংরেজি থেকে দূরে থাকার কোনোই সুযোগ নেই। সে কারণে পাঠদানের মাধ্যমটি ইংরেজি হলে শিক্ষার্থীদের কিছুটা সুবিধা হয়। উচ্চতর পড়াশোনার জন্য বিদেশ গমন তাদের জন্য সহজ হয়। আর এসব কারণেই আমি মনে করি না যে, এতে মাতৃভাষার প্রতি কোনোরূপ অমর্যাদা করা হয়।

বাংলাদেশের ইংরেজি পত্রিকা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

ইংরেজি পত্রিকাগুলো এখন বৈঠকখানা কিংবা কমনরুমের উঁচু টেবিলে সজ্জিত থাকে, যা দেখতে ভালোই লাগে। ইংরেজি পত্রিকাগুলো এখন ভালোই ইংরেজি লিখছে। দ্য ডেইলি স্টার-এর ইংরেজি আমার কাছে আন্তর্জাতিক মানের বলেই মনে হয়। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি পত্রিকা পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য নিয়মিত তাগাদা দিচ্ছি।

বিইউবিটিতে একটি ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব রয়েছে প্রকৃতপক্ষে এটি কী?

ইংরেজি শেখার চারটি দক্ষতাÑ ‘পড়া, লেখা, শোনা ও বলা’ সহজ হয়ে যায় যদি শিক্ষার্থী ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাবে গিয়ে ইংরেজির প্র্যাকটিস করে। আধুনিক কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিসহ এই ল্যাবটি বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় গড়ে ওঠে।

ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব কীভাবে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করে?

ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাবে যখন শিক্ষার্থী আসে, তখন সে তার ভাষা চর্চার সহজাত লজ্জাবোধ কাটিয়ে ওঠে। ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে এই জড়তা কাটিয়ে উঠতে পারাই তো বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য শুদ্ধ উচ্চারণ জানতে হয়। ল্যাবে ভাষা চর্চার ব্যবস্থা থাকলে সেটি জানা বেশ স্বাচ্ছন্দ্য হয়।

ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব কি স্কুল পর্যায়েও স্থাপিত হতে পারে?

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের জন্য শিক্ষার্থীর ইংরেজির যেটুকু শক্ত ভিত গড়ে ওঠা দরকার, তা আজকাল অনেকটাই নেই। ১২ বছরের ইংরেজি অধ্যয়ন শেষেও ভিতটি নড়বড়ে থাকছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য স্কুল পর্যায়ে ইংরেজির ওপর নজর দিতে হবে। ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাবের উপযোগিতা এবং উপকারিতা অনেক। স্কুল পর্যায়ে এটিকে নিয়ে যাওয়া হলে দেশের ইংরেজি শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় রয়েছে।

বিইউবিটির ইংরেজি বিভাগের আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্য রয়েছে কি না

এখানে শিক্ষকরা অত্যন্ত আন্তরিক। এটিই প্রধান বৈশিষ্ট্য। তারা নিবেদিত এবং প্রাণোচ্ছল। এখানে যথাসময়ে ক্লাস এবং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিইউবিটির লাইব্রেরি যথেষ্ট সমৃদ্ধ।

ইংরেজি কবিতা কি ভিনদেশি জনগোষ্ঠীকেও প্রভাবিত করতে পারে?

‘ও ক্যাপ্টেন, মাই ক্যাপ্টেন।’ এটি আমাদের এখানে শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টারে পড়ানো হয়। কবিতাটি আমার খুব প্রিয় বলে এটি আমি নিজেই পড়াই। ঝড় পেরোনো জাহাজটি তীরে এসেছে। যাত্রী তার ক্যাপ্টেনকে ডাকছেন, ‘ও ক্যাপ্টেন, আপনি উঠুন এবং শুনুন জাহাজ থামার ঘণ্টা বাজছে। ভয়ানক ভ্রমণ শেষে আমরা এখন সমুদ্র তীরে।’ জাতির কান্ডারির প্রতি কবির আকুতি। কিন্তু কান্ডারি তখন মৃত। মুক্তছন্দের জনক ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতাটি গৃহযুদ্ধ পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের হত্যাকাণ্ডের পর লিখিত হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলির সঙ্গে দারুণভাবে মিলে যায় এটি। এসব কবিতার চর্চা আমাদের রাজনৈতিক জীবনে স্থিরতা কিংবা উন্নয়নে সব ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। যেকোনো ভাষারই সাহিত্য শুধু সে ভাষার মানুষেরই জন্য নয়। সেসব কিন্তু সর্বজনীন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :