সাভারে অবৈধ সিসা কারখানা

বিষক্রিয়ায় হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাভার
 | প্রকাশিত : ১১ মে ২০১৯, ০৯:২০

পরিত্যক্ত ব্যাটারি সংগ্রহের পর সেগুলো অবৈধ কারখানায় রাতের আঁধারে আগুনে গলিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সিসা। ব্যাটারি পোড়ানোর সময় এতে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান বাতাসে মিশে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এর বিষক্রিয়ায় আশপাশের এলাকার গাছপালা শুকিয়ে মলিন হয়ে পড়েছে।

শুকিয়ে ঝরে যাচ্ছে গাছের ফল। ঘাসের ওপর জমে থাকা রাসায়নিক বিষ খেয়ে মরছে গবাদি পশু। প্রকৃতি বিরূপ হয়ে পড়ায় নীড় ছেড়ে চলে যাচ্ছে পাখপাখালি। কারখানা ঘিরে আশপাশের জীববৈচিত্র্য পড়ছে মারাত্মক হুমকিতে।

এসব অভিযোগ সাভারের আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া এলাকার বাসিন্দাদের। দিনের পর দিন পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রতিকারের জন্য ঘুরেও কোনো ফল পাচ্ছেন না তারা।

সরেজমিনে ঘুরে আশুলিয়া ইউনিয়নের শ্রীখন্ডিয়া ও দুর্গাপুর এলাকায় রাসায়নিক বিষক্রিয়ার কারণে পরিবেশের এমন বিরূপ চিত্র দেখা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই এসব এলাকার যত্রতত্র অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির প্রায় ১৫টি কারখানা। খোলা আকাশের নিচে একেবারে উন্মুক্ত পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে এসব কারাখানা পরিচালনা করছেন অসাধুরা।

সরেজমিনে জানা যায়, দুর্গাপুর এলাকায় আজাদ ও রেদওয়ান নামের দুই ব্যক্তি স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় গড়েছেন সিসা তৈরির দুটি বিশাল বেনামি কারখানা। পার্শ্ববর্তী শ্রীখন্ডিয়া এলাকার প্রভাবশালী আমজাদ হোসেনের মালিকানাধীন জায়গায় একটি নির্জন স্থানে অবৈধভাবে কারখানা গড়েছেন সজিব ও সুমন নামের দুই ব্যক্তি। তবে এলাকাবাসীর চাপের মুখে তারা ইতোমধ্যে কারখানা গুটিয়ে সটকে পড়েছেন। এ ছাড়া আমজাদ হোসেনের জায়গার পেছনেই গড়ে তোলা হয়েছে এ রকম আরে প্রায় ১১টি সিসা তৈরির কারখানা।

স্থানীয় আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, বিগত ছয়-সাত মাস ধরে তাদের এলাকার যত্রতত্র বেশ কিছু কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব কারখানায় রাতভর পরিত্যক্ত ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হয়। এ সময় নির্গত ধোঁয়ায় বিষাক্ত রাসায়নিক আশপাশে ছড়িয়ে পড়ায় গাছপালা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। গাছের আম ও কাঁঠাল পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর নির্গত ধোঁয়ার বিষাক্ত রাসায়নিক ঘাসের ওপর ছড়িয়ে পড়ায় ওই ঘাস খেয়ে এলাকার গবাদি পশুও নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার সকালে তার একটি গর্ভবতী গাভি বাছুর মারা গেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, অবৈধ সিসা কারখানার কারণে এলাকায় তাদের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে কারখানার আশপাশের ঘাস খেয়ে বেশ কয়েকটি গরু রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কারা। প্রশাসন ও পুলিশের  এসব অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজশ রয়েচে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এসব অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে দুর্গাপুর এলাকার অবৈধ সিসা কারখানার মালিক আজাদ ও রেদওয়ান সেসব অস্বীকার করেন। এমনকি সরেজমিনে গেলে তারা কিছু নামধারী সাংবাদিক ও প্রভাবশালীর দোহাই দিয়ে জীববৈচিত্র্য বিনষ্টের বিষয়টি উড়িয়ে দেন।

লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশনা পেলে তিনি ব্যাপারটি তদন্ত করতে পারবেন।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজুর রহমান বলেন, দুর্গাপুর ও শ্রীখন্ডিয়া এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিসা তৈরির কারখানার ব্যাপারে তিনি অবগত নন। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে শিগগির সেসব কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

ঢাকাটাইমস/১১মে/আইআই

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :