ছাত্রলীগের সহসভাপতি তুষারের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নিয়ে প্রশ্ন

ঢাবি প্রতিবেদক,ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৯, ২২:০৩

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ পাওয়া মাহামুদুল হাসান তুষারকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন, ‘মাহামুদুল হাসান কখনো শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ছিলেন ছাত্রলীগের দুর্দিনের কর্মী। এছাড়া, তার পরিবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’

ছাত্রলীগের একটি পক্ষের অভিযোগ, চট্টগ্রাম কলেজে পড়ার সময় তুষার শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত নেতাদের নিজের স্বপক্ষে প্রমাণ দেখাতে না পারলে পদশূন্য করার ঘোষণা দেন।

তবে, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ বলছে, ‘২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে মাহমুদুল হাসান তুষার চট্টগ্রাম কলেজের এইচএসসি ‘চ’ শাখার ছাত্র ছিলেন। কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের সব কার্যক্রমে অংশ নেন। সে ছাত্রলীগের দুর্দিনের কর্মী’।

এছাড়া, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তৎকালীন সময়ে চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ আরিফসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। আরিফ তার স্ট্যাটাসে লিখেন- ‘রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র ছিল, থাকবে, ষড়যন্ত্রকে মাড়িয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তুষার সাহস, মেধা ও পিতা মুজিবের আদর্শকে সম্বল করে এগিয়ে যাও। ’

জানতে চাইলে, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি মাহামুদুল করিম বলেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘২০১০ সালে থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পযন্ত ছাত্রশিবিরের বাধার কারণে আমি চট্রগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারিনি। এই দীর্ঘ পাঁচ বছর সময়ের মধ্যে আমি শিবিরের দ্বারা বেশ কয়েকবার আক্রান্ত হয়েছি। সেসব দুর্দিনে আমি যে কয়জন ছোট ভাইকে কাছে পেয়েছি তাদের মধ্যে মাহামুদুল হাসান তুষার অন্যতম।’

তিনি বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে এই কলেজে কেউ ছাত্রলীগ করতে চাইত না, আমরা হাতে-গোনা ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগ করতাম। আর তুষার সেইসময় আমাদের সকল মিছিল মিটিং এ উপস্থিত ছিল। তাকে নিয়ে আমি বেশ কয়েকবার তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি এম আর আজিম ভাইয়ের অফিসে গিয়েছি। ’

এদিকে, মাহামুদুল হাসানের পিতাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের নিবেদিত কর্মী হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. শাহজাহান, যুবলীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার যুগ্ম-সম্পাদক ও সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক থেকে কেন্দ্রে সহ-সভাপতি পদ পাওয়া  মাহমুদুল হাসান তুষার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি প্রায় ১০ বছর ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতি করি। দলের দুর্দিনে ভূমিকা রেখেছি। একটি হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। এ পর্যায়ে এসে অন্য সংগঠনের কর্মী বলে ব্লেইম দেওয়াটা সত্যিই দুভার্গ্যজনক। আমি সংগঠনের কাছে আমার সকল প্রমাণাদি তুলে ধরবো।’

ঢাকাটাইমস/১৮মে/ ইএস

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :