রূপগঞ্জের কুইচ্ছা যাচ্ছে বিদেশে

আতাউর রহমান সানী, রূপগঞ্জ
| আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ১৪:২৭ | প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৯, ১২:৫৫

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খাল-বিল, ডোবা, ধানী জমিসহ বিভিন্ন স্থানে এক ধরনের চাঁই ব্যবহার করে ধরা হচ্ছে কুইচ্ছা। বিশেষ কায়দায় ধরা এসব কুইচ্ছা যাচ্ছে চীনে। আর কুইচ্ছা বিক্রি করে অন্তত ৩০ পরিবার স্বাবলম্বী। প্রতিমাসে প্রায় নয় লাখ টাকা আয় করেন তারা। কুইচ্ছা ধরার পদ্ধতি দেখে ও লাভজনক পেশা হওয়ায় অনেকেই এ পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন।

কুইচ্ছা ব্যবসায়ী মাযাহারুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে জানান, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার উজানভাটিয়া এলাকায়। তার বাবার নাম গোলাম মোস্তফা। তিনি ছোট ভাই বাহারুল ইসলামকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে কুইচ্ছা ধরে বিক্রি করে আসছেন।

মাযাহারুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফার মতো আশ্রাফুল ইসলাম, মাঝু মিয়া, আঙ্গুর মিয়াসহ ৩০ পরিবারের লোকজন এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।

মাযাহারুল জানান, ৩০টি পরিবারের মধ্যে প্রতি পরিবারের ১০০ থেকে ১৫০টি চাঁই রয়েছে। কেঁচো গেঁথে এসব চাঁই খাল-বিল, ডোবা, ধানী জমিসহ বিভিন্ন স্থানে পাতা হয়। হাঁটু পর্যন্ত পানিতেও চাঁই পাতা হয়ে থাকে। বর্তমানে তারা হাটাব, আমলাব, কালী, বাড়ৈপাড়, কর্ণপোগ, পাঁচাইখা, ভায়েলা, মিয়াবাড়ী, শান্তিনগড় এলাকায় অবস্থান নিয়ে কুইচ্ছা ধরছেন। প্রত্যেকে গড়ে প্রতিদিন তিন থেকে চার কেজি কুইচ্ছা ধরছেন। আর প্রতিদিন বেপারীরা এসব কুইচ্ছা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি কেজি কুইচ্ছা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ওই হিসেবে প্রতি পরিবার প্রতিদিন এক হাজার টাকার বেশি আয় করছেন। আর মাসে আয় হচ্ছে ৩০ হাজার। ৩০ পরিবার মাসে আয় করছে নয় লাখ টাকার মতো।

জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বইদ্ধার বাজার এলাকায় ও রাজধানীর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং কোনাবাড়ি এলাকায় কুইচ্ছার আড়ৎ রয়েছে। ওই আড়ৎ থেকে সপ্তাহে দুই দিন চীনে পাঠানো হচ্ছে। চীনে কুইচ্ছার চাহিদা অনেক বেশি। সেখানে কুইচ্ছা একটি স্বাদের খাবার হিসেবে পরিচিত।

কুইচ্ছা ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমাদের দেশে কুইচ্ছা অনেকেই পছন্দ করে না। এজন্য কেউ এ পেশায় ঝুঁকতে চায় না। তবে, আমাদের দেখে ও লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় অনেকেই এ পেশায় ঝুঁকতে শুরু করেছে। সরকারিভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হলে কুইচ্ছা চাষের ওপর প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সমীর কুমার বসাক ঢাকাটাইমসকে বলেন, বর্তমানে কুইচ্ছা একটি লাভজনক পেশা বলে আমরাও জানি। আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা চেষ্টা করবো সরকারিভাবে সহযোগিতা করার।

(ঢাকাটাইমস/২০মে/জেবি)  

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :