মুষ্টির চালে সেহেরি-ইফতার করে তারা

বদরুল ইসলাম বিপ্লব, ঠাকুরগাঁও
 | প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৯, ১৩:৫১

‘দিনের বেলায় এলাকার কমবেশি প্রতিটি বাড়িতে গিয়েই খয়রাতি (মুষ্টি চাল) চাল তুলি। সেই চাল দিয়েই সেহেরি ও ইফতারি করি। আমাদের খুব কষ্ট হয় এখানে থাকতে। থাকার জায়গার সংকট। সরকার আমাদের এই এতিমখানাঙ কিছু সাহায্য করলে অনেক ভালো হয়।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মধুপুর মোহেব্বীয়া দারুচ্ছুন্নাত এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ইয়াকুব ইসলাম কথাগুলো বলছিল। হঠাৎ এতিমখানায় ইফতার দেখে আনন্দিত হয়ে উঠে ছাত্ররা। তাদের মুখের হাসিটি দেখে যেন মন জুড়িয়ে যায়।

শুধু সে-ই নয় সেখানকার প্রতিটি ছাত্র-শিক্ষক-এলাকাবাসী সবাই চায় এটির উন্নয়ন।

জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে ২০ জন এতিম বাচ্চা ও দুজন শিক্ষক নিয়ে শুরু হয় এই হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার যাত্রা। কাটাগর মাদ্রাসা নামেও অনেকে চেনেন এ মাদ্রাসাটিকে। আগ্রহী শিশুদের কোরআন এ হাফেজ শিক্ষা দেওয়া হয় এখানে। আবাসিক ব্যবস্থা হিসেবে এতিমখানা চালু করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায় না। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মুষ্টির চাল তুলে শিক্ষার্থীদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। মাঝে মাঝে এলাকার লোকজন মানতের ছাগল দান করলে এতিমদের কপালে জুটে মাংস ভাত। এলাকায় খয়রাতি চাল (মুষ্টি চাল) তুলে এনেই খাওয়ার জোগাড় করে ছাত্ররা। সেই সাথে এতিমখানার সভাপতি সহ কমিটির লোকেরা ও এলাকাবাসীর অর্থায়নেই চালাতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপরেও থেমে নেই শিক্ষকদের চেষ্টা। হাজার সমস্যার মধ্য দিয়েও বিনা বেতনে বাচ্চাদের কোরআন বিষয়ে শিক্ষা দিচ্ছেন তারা।

তাদের দাবি, সরকারি কোনো অনুদানের ব্যবস্থা যেন করা হয়।

এতিখানার ছাত্র গোলাম রাব্বি বলেন, ‘আমরা ২০ জন ছাত্র থাকি একটি রুমে। কোনো খাট বা চৌকি না থাকায় শীত বর্ষা ও গরমের দিনে মেঝেতে থাকতে হয়। গরমে ফ্যানের ব্যবস্থা নেই এখানে।’ তারা জানায়, গরমে সবাই ফ্যানের নিচে থাকলেও তাদের সে সৌভাগ্য হয় না কোনোদিনও।

সেই এতিখানার শিক্ষক আনোয়ারুল ইসালাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা সবাই নিজস্ব অর্থায়নে ও এলাকাবাসীর সাহায্য নিয়ে এটি পরিচালনা করে যাচ্ছি। বাচ্চাদের থাকার ঘরের কোনো ভালো সুবিধা নেই। অর্থের অভাবে তাদের সঠিক খাওয়াও দেয়া সম্ভব হয় না। খুব কষ্টে থাকে ওরা। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একটি রুম করার চেষ্টা করছি। কিন্তু অর্থের অভাবে সেটির কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।’

এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, অনেকদিন ধরেই এই এতিমখানাটি আমাদের এলাকায় আছে। এখানে তারা নামাজ ও কোরআন পড়ে। দেখতে অনেক ভালো লাগে। কিন্তু কষ্টে বিষয় এই বাচ্চারা খুব কষ্টে থাকে এখানে। আমার এলাকাবাসী তাদের জন্য এক মুষ্টি করে চাল ছাড়া কিছুই দিতে পারি না। সপ্তাহে একদিন এতিমখানার বাচ্চারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে মুষ্টির চাল  নিয়ে আসে।

মোহেব্বীয়া দারুচ্ছুন্নাত মাদ্রাসা ও এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুল বলেন, ‘আমরা এলাকার গরিব অসহায় ছেলে-মেয়েদের বিনে পয়সায় কোরআন এ হাফেজ বানানোর উদ্যোগ নিয়েছি। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় এটি চলে আসছে। কিন্তু সরকারি সুযোগ সুবিধা পাই না। সরকারি ক্যাপিটাল গ্রান্ড ধরাতে অনেক কিছু লাগে। আমাদের অনেক কিছু নেই। তাই সরকারি বরাদ্দ পাই না।’

তিনি জানান, এখানে ২০ জন এতিম শিশু থাকেন। তাদের জন্য সরকারিভাবে বা সমাজসেবার মাধ্যমে কোনো অনুদানের ব্যবস্থা হলে ভালো হতো।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘এতিমখানাতে আমরা অনুদান দিই। তবে সেই অনুদানের জন্য এতিখানাকে সমাজসেবা থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপরে আমার একটা অনুদানের জন্য আবেদন করলে সেটার মাধ্যমে কিছু সাহায্য করা যায়।’

(ঢাকাটাইমস/২০মে/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :