দুই যুগ পর রায়

ছাত্রীর শ্লীলতাহানি: পাঁচ আসামির ১৩ বছরের জেল

রংপুর ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৯, ২৩:৫৩

২৪ বছর পর রংপুরে চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্রী রুমানা আফরোজ তন্দ্রাকে শ্লীলতাহানি, মারধর ও আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলায় পাঁচ আসামিকে ১৩ বছর করে কারাদ- দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জাবিদ হোসেন এ আদেশ  দেন।

আসামিরা হলেন, মানিক, রতন, রানা, বাবলা, মালেকা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ঢাকার মিরপুর আইডিয়াল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমানা আফরোজ তন্দ্রা রংপুরের বরার্টসনগঞ্জ বাবুপাড়া এলাকায় তার বাসায় আসেন। এ সময় একই এলাকার মানিক, রতন, বাবলা ও রানাসহ বেশ কয়েকজন যুবক তাকে যৌন হয়রানি করতেন। ওই বছরের ১ জুলাই সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী দোকানে দিয়াশলাই আনতে গেলে তন্দ্রাকে আসামিরা শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।

এতে তন্দ্রা ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি থেকে কুড়াল নিয়ে আসামিদের ওপর আঘাত করার চেষ্টা করলে আসামিরা তাকে প্রকাশ্যে মারধর করে শরীরে থাকা কাপড় ছিড়ে দেন এবং অপহরণের চেষ্টা করেন।

পরে জনসম্মুখে শ্লীলতাহানি ও মারধর করায় তন্দ্রা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পড়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
এ ঘটনায় রুমানা আফরোজার  মা মাসুদা চৌধুরী বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ২৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ ও চার্জশিট পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার (২১ মে) আদালত পাঁচজনকে বিভিন্ন ধারায় অর্থদ-সহ মোট ১৩ বছরের সাজা দেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ:
রায় ঘোষণার সময় বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, একটি মেয়ে কত অসহায় হতে পারে শত শত মানুষের সামনে তাকে অপদস্ত করা হলো, অথচ কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। এ মামলায় সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

বিচারক বলেন, এখন পত্রিকায় পাতা খুললেই দেখা যায় যৌন হয়রানি, খুনসহ নানান অপরাধমূলক কর্মকা-। দিন দিন এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমছে না বরং বাড়ছে।

আসামিরা একটি অসহায় মেয়ের ওপর যে ধরনের বর্বরতা করেছে তাতে করে তাদের কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি হওয়া উচিত।

সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের বিশেষ পিপি জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, এই মামলার বিচার আসামিরা বিভিন্নভাবে বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছে। তার পরেও ২৪ বছর পর আদালত সাজা দিয়েছেন। বাদী পক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে।

এ ঘটনায় রুমানা আফরোজার মা মাসুদা চৌধুরী বলেন, আমি তো আর মেয়েকে ফিরে পাবো না। আমি আশা করছিলাম আসামিদের ফাঁসি হবে। কিন্তু হলো না। তবুও আমি খুশি। কিন্তু আসামিরা তো প্রভাবশালী উচ্চ আদালতে গিয়ে যেন জামিন না পায় সরকারের কাছে সেই দাবি করছি।

ঢাকাটাইমস/২১মে/ইএস

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :