ঘোষণা ছাড়া শেয়ার বিক্রি

উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৯, ২১:৩২

নিয়ম অনুসারে ঘোষণা না দিয়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানির যেসব উদ্যোক্তা-পরিচালক শেয়ার বিক্রি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এই ধরনের উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড  এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) দেওয়া হবে।

বুধবার ডিএসইতে অনুষ্ঠিত স্টেকহোল্ডারদের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বৈঠকে ডিএসই ছাড়াও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পুঁজিবাজার উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে এবং এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয় বৈঠকে।

সম্মেলনে জানানো হয়, গত কিছুদিনে অনেক সংস্কারের পরে পুঁজিবাজারে গতি পাচ্ছে না। মনে হচ্ছে কোথাও কোন গ্যাপ আছে। সেটা সমন্বয়ের অভাব বলেই আজকের সভায় আলোচনা হয়েছে। তাই আগামীতে ডিএসই, ডিবিএ, সিএসই ও বিএমবিএ একসাথে কাজ করবে। যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সবার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা।

যেসব উদ্যোক্তা-পরিচালক ইতিমধ্যে না জানিয়ে এবং রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শেয়ার বিক্রি করেছেন, তাদের তালিকা করা হচ্ছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যারা এ কাজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যাখ্যা ও আইনি করণীয় নিয়ে বিএসইসির কাছে আবেদন জানানো হবে। ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব কীভাবে আদায় করা যায় সেই ব্যাপারেও বিএসইসির কাছে আবেদন করা হবে।

উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রি করতে হলে অবশ্যই স্টক এক্সচেঞ্জকে জানাতে হয় এবং কর পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু বেশ কিছু সময় ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু  উদ্যোক্তা  স্টক এক্সচেঞ্জকে না জানিয়ে এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শেয়ার বিক্রি করছে। তাই এ বিষয়ে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন করেছেন যে সিডিবিএলে  উদ্যোক্তা শেয়ার মার্ক করা থাকবে এবং তাদের বিক্রি করতে হলে স্টক এক্সচেঞ্জকে জানাতে হবে। এবং  উদ্যোক্তারা কারণ উল্লেখ করে জানানোর পরে স্টক এক্সচেঞ্জ লক খুলে দিলেই তারা শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন। আর এই লক খুলে দেয়ার সিস্টেম স্টক এক্সচেঞ্জ এর কাছে থাকবে। ফলে তারা না জানিয়ে এবং রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আর শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, আগে না জানিয়ে উদ্যোক্তা/পরিচালকরা শেয়ার বিক্রি করতে পারলেও এখন আর সেটা সম্ভব না। এ ছাড়াও পুঁজিবাজারে অনেকে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করেও পরিচালক পদে বসে রয়েছে। এ সমস্যা রোধে কমিশন এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ছাড়া ব্রোকারেজ হাউসের বুথ খোলার বিষয়ে যে দুই কিলোমিটার সীমা দেয়া আছে সেটা বাড়ানোর জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করা হবে। বাজারের লেনদেন বাড়াতে হলে বুথের পরিমাণও বাড়াতে হবে, অনেক ব্যাংক আছে যাদের শাখার পরিমাণ কম কিন্তু তাদের বুথ খোলার সীমা বাড়িয়ে দিলে লেনদেনের পরিমাণ বাড়বে।

ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিএসইসি গত ২৯ এপ্রিল অনেকগুলো সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। কমিশন উদ্যোক্তা/পরিচালকদের পৃথকভাবে ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ, অযৌক্তিক বোনাস শেয়ার ঘোষণা বন্ধ, উদ্যোক্তা/পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি নিয়ন্ত্রণে ব্লক মডিউল তৈরি ইত্যাদি পদক্ষেপ নিয়েছে।

১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে যে আইনি বাধ্যগতা আছে তা সংশোধনের জন্যও বিএসইসির কাছে আবেদন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শেয়ার সংখ্যা বাড়াতে গেলে বর্তমানে যে সীমা দেয়া আছে তা থেকে বাড়ানোর জন্য বিএসইসির কাছে দাবি জানানো হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

পুঁজিবাজার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :