অতিরিক্ত জরিমানা-ফি আদায়ের প্রতিবাদ বশেমুরকৃবি শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ২৩:২০ | প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৯, ২৩:০৬

অতিরিক্ত জরিমানা ও বিভিন্ন বাড়তি ফি আদায়ের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) শিক্ষার্থীরা। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ আন্দোলন শুরু করেন। ২০ মে ক্লাসের উপস্থিতির ওপর জরিমানা আদায়ের নোটিশ জারি হলে পরদিনই আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলোতে আটকে রেখে আন্দোলনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। 

শিক্ষার্থীরা জানান, হঠাৎ করেই বশেমুরকৃবি প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে যদি কোন শিক্ষার্থী ৮০% এর নিচে ক্লাসে উপস্থিত থাকে তাহলে তাকে জরিমানা দিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে হবে। শ্রেণিকক্ষে ৭০-৭৯% উপস্থিতি হলে ২০০০ টাকা এবং ৬০-৬৯% উপস্থিতি হলে ৫০০০ টাকা জরিমানা ধার্য্য করা হয়েছে। যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য অনেক বেশি। জানা গেছে, ৮০% ক্লাসে উপস্থিতি না হলে জরিমানা করার বিষয়টি যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি বশেমুরকৃবির শিক্ষার্থীদের। তাই তারা শিক্ষকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে সুরাহা করতে গেলেও শিক্ষকরা কোন কথা বলেনি। তাই এ বিক্ষোভ।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, দ্বিতীয় দিনের মত আজ সকালে আন্দোলন শুরু করার পর নানাভাবে আন্দোলন বানচাল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রশাসন। মেয়েদের আবাসিক হল থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে। তাদের উদ্ধার করতে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হুমকি দেয় প্রশাসন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের ১৩তম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি স্বায়ত্তশাসনের নামে শিক্ষার্থীদের প্রতি স্বৈরাচারী আচরণ করে যাচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও এখন পর্যন্ত কোর্স ক্রেডিট সিস্টেমে বছরে তিনটি টার্ম শেষ করে। প্রতি টার্ম শুরুর ১৭ দিনের মাথায় ১ম মিড, ১ম মিড শেষ হবার ১৫ দিনের মাথায় ২য় মিড, আবার ২য় মিড শেষ হবার ২৭ দিনের মাথায় ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে হয় শিক্ষার্থীদের।

এই মিডের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস, ল্যাব ক্লাস, কুইজ পরীক্ষা যথারীতি চলতে থাকে। পাশাপাশি ৮০% ক্লাসে উপস্থিত না থাকলে চুড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে দেয়া হয় না।

শিক্ষার্থীরা জানান, ৪ বছরে ২৪০ ক্রেডিট পড়ার কথা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চিন্তাই করতে পারেন না। সেখানে স্নাতক পর্যায়ে চারটি অনুষদের মধ্যে কৃষি ও কৃষি অর্থনীতি অনুষদে চার বছরে ২৪০, ফিশারিজ অনুষদ ২৩০ এবং ভেটেরিনারি অনুষদ পাঁচ বছরে ২৮৩ ক্রেডিট পড়ানো হয়। তাদের অভিযোগ, বছরে তিনটি টার্মের ( প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির মত) শুরুতে প্রতি স্টুডেন্টের কাছে ফি বাবদ প্রায় ১২ হাজার টাকা নেয় প্রশাসন।

তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হঠকারিতা, স্বৈরাচারীতা, দুর্নীতি ইত্যাদির জন্য আমাদের জীবন অতিষ্ঠ। এর বিরুদ্ধে কেও কথা বললেই প্রশাসন বিভিন্ন ভাবে ছাত্রছাত্রীদের হুমকি প্রদান করে ও বিভিন্না অজুহাতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

১৮৭ একরের এই ক্যাম্পাস ছাত্রছাত্রীদের কাছে স্বাধীন বাংলার মাঝে এক পরাধীন যায়গার মত মনে হয় বলে তারা অভিযোগ করেন। তাই তারা এর প্রতিবাদে তাদের দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হচ্ছে: ১. ৮০% এর ক্লাসের উপস্থিতি ধরে যে জরিমানা ধরা হয়েছে সেটা বাতিল করতে হবে এবং পরীক্ষা দেওয়ার সর্বনিম্ন উপস্থিতি হার ৬০% করতে হবে। ২. অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মিল রেখে এনরোলমেন্ট ফি ১০০০-১২০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে। ৩. ২টি মিড পরীক্ষার একটি বাদ দিতে হবে এবং পরীক্ষার পর কোন ক্লাস-ল্যাব দেয়া যাবে না।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। 

ঢাকাটাইমস/২৩মে/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :