কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে বিএনপির ১২ দফা

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ মে ২০১৯, ১৯:২৬ | প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৯, ১৭:৪৪

নেতাদের পকেট ভরাতে সরকার কৃষককে বঞ্চিত করছে এমন অভিযোগ করে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের জন্য সরকারের কাছে ১২ দফা দাবি জানিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান কেনার দাবি জানিয়েছে দলটি।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবিগুলো তুলে ধরেন।

দলের দাবিগুলো তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘কৃষি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে, কৃষিঋণ মওকুফ করতে হবে।’

বিএনপির অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে কৃষকদের উৎপাদিত ধানের বিপরীতে সরকার–ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী কৃষককে কমপক্ষে তিন মাসের জন্য সমপরিমাণ টাকা বিনা সুদে প্রদান করা; সরকারি পর্যায়ের ধান–চাল গুদামজাত করার ক্ষমতা বাড়িয়ে বেশি পরিমাণে ধান কেনা; কৃষকদের সহায়তার জন্য বেসরকারি গুদাম ভাড়া করে সেখানে ধান–চাল সংগ্রহ করা; কৃষকের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ ধান কেনার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া; কৃষকদের হয়রানি কমিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান বা চাল কেনা, প্রান্তিক চাষি ও খেতমজুরদের জন্য বিশেষ সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ; ধান-চাল কেনার ক্ষেত্রে অসৎ কর্মকর্তাদের সরানো এবং অসৎ কর্মকর্তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা।

ফখরুল বলেন, ‘দলীয় নেতা-কর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য তাদের ধান কেনার অনুমতি দিয়ে সরকার কৃষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে। দেশে ধান উৎপাদন সম্পর্কে সরকার মিথ্যাচার করছে। মৌসুমের আগেই ধানের সংগ্রহ মূল্য ঘোষণা করা এবং সংগ্রহ মূল্য অবশ্যই উৎপাদন খরচের চেয়ে যৌক্তিক পরিমাণ বেশি হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দুর্বিষহ। কিন্তু কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত। দেশের প্রায় দেড় কোটি কৃষক পরিবারের আজ  ত্রাহি অবস্থা।’

মির্জা ফখরুল বলেন,‘কৃষকদের বিশেষ করে ধানচাষিদের চাওয়া হচ্ছে সরকার ন্যায্যমূল্যে চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনুক। কৃষকদের চাওয়া খুবই সামান্য ও যৌক্তিক। আমরা কৃষকদের এই যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একমত।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘চাল আমদানির ক্ষেত্রে দুর্নীতির মাত্রা এতই ব্যাপকতা লাভ করেছে যে’ সরকারের অংশীদারি একটি দলের প্রধান সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননও চাল আমদানিতে সরকারের দুর্নীতির কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি দলের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনও এই পরিস্থিতির জন্য এ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে দায়ী করেছেন।’

ফখরুল বলেন, ‘গত বছরের উৎপাদনকে হিসাবে নিলে বোরো ধানের উৎপাদন হবে প্রায় দুই কোটি মেট্রিক টন। আর সরকার সংগ্রহ করবে মাত্র ১৩ লাখ টন, যা উৎপাদনের মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আমাদের দাবি, ধান অথবা চাল সংগ্রহের পরিমাণ কমপক্ষে বোরো উৎপাদনের ১৫ শতাংশ করা হোক। এতে বেশি পরিমাণ কৃষককে সহায়তা দেওয়া যাবে।’

খেলাপি ঋণের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন,‘আপনারা জানেন বর্তমানে ব্যাংকব্যবস্থায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এই খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য সরকার বিশেষ ছাড় দিয়েছে। যদিও এই ছাড় মহামান্য হাইকোর্ট আটকে দিয়েছেন। সরকার ব্যাংক লুটপাটকারীদের দুধকলা দিয়ে পুষছে। অথচ এই খেলাপি ঋণের মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ দিলে সরকার আরও প্রায় ৩৬ লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এতে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা উপকৃত হবেন। বর্তমানে কৃষকদের যে দূরবস্থা, তা দূর করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের দুর্নীতি ও অদূরদর্শিতার কারণে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষি আজ ধ্বংসের মুখে। বারবার গরিব কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এর সুদূরপ্রসারী পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি কৃষিখাতকে একটি আধুনিক ও টেকসই খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য আজ বড়ই প্রয়োজন সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে খুব দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের একটি সরকার।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২৫মে/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :