খুব বেশি পানি পানে বাড়তে পারে সমস্যা

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৯, ০৯:৩০

দাপট দেখাচ্ছে গরম, গরমে রোদে বেরোলেই পেয়ে বসছে তেষ্টা। যারা রোজা রাখেন তারা ইফতারের সময় একসঙ্গে প্রচুর পানি পান করেন। আর যারা রোজা থাকেন না তারাও তেষ্টা পেলেই ঠাণ্ডা পানি পেটু পুরে পান করছেন। আপনি যদি এই কাজটি নিয়মিত করে থাকেন তাহলে এখনই তা বদলে ফেলুন।

পানি পানের উপকারিতা অনেক কিন্তু এটি খুব বেশি একসময় পান করলে সমস্যাও হতে পারে খুব। ডায়েটিশিয়ান থেকে ডাক্তার প্রত্যেকেই সুস্থ থাকতে বা ওজন কমাতে পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে পানি যদি ঠিকঠাক নিয়ম মেনে না খান গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগতে পারেন আপনি।

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দিনে দুই থেকে তিন লিটার পানি খাওয়া উচিত। তবে খুব গরম হলে আধা লিটার বাড়ানো যেতে পারে। তবে তা একসঙ্গে নয়। গোটা দিন জুড়ে সময়মত অল্প অল্প করে পানি খাওয়া উচিত। একসঙ্গে অতিরিক্ত পানি খেলে লিভারে চাপ পড়তে পারে। এতে পরবর্তীকালে লিভার খারাপ বা পেটের অসুখ দেখা দেবে।

প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি খেলে হাইপোনাট্রেমিয়ার শিকার হতে পারেন আপনি অর্থাৎ শরীর থেকে কমে যাবে সোডিয়ামের পরিমাণ। যার ফলে গা গোলানো, বমি বমি ভাব, মাথা ধরা, শ্বাস কষ্ট, পেশিতে টান, দুর্বলতা দেখা দেবে শরীরে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি খেলে একটা সময়ের পর সবসময়ের জন্য পেট ফুলে থাকবে আপনার। যখনই তেষ্টা পাবে তখনই প্রয়োজনমতো পানি পান করুন।

কিডনিতে সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া প্রয়োজনের বেশি পানি খাবেন না। কারণ শরীরের ভিতরের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কিডনির, কিডনি অনাবশ্যক ক্ষতিকারক পদার্থসমূহ শরীর থেকে দূর করার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কিন্তু কিডনি যদি সেই কাজ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে শরীরের ভিতর জমা হতে থাকবে দূষিত পদার্থ। তাই কিডনির অবস্থা বুঝেই পানি খাওয়া উচিত।

অনেকেই পানি ছাড়া খাবার খেতে পারেন না। কিন্তু জানেন কি, খেতে খেতে পানি খাওয়ার অভ্যাস ক্ষতিকারক। উৎসেচকের ঘনত্ব কমে যায়, যার ফলে হজমে সমস্যা হতে পারে। খাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগে পরিমাণমত পানি খান। যার ফলে আপনার পেট ভরা থাকবে, কাজেই কম খাবেন। এতে হজম ভাল হবে।

সারাদিনে কাজের ধরন অনুযায়ী পানি খাওয়া উচিত। কেউ যদি খুব কঠোর পরিশ্রম করে থাকেন তাহলে গরমে ঘামের পরিমানও অধিক হবে। সেক্ষেত্রে জলের পরিমান তিন বোতল থেকে আরেক বোতল বাড়ানোই যায়। যারা অফিস করেন এবং সারা দিনই কাটে এসির ঘেরাটোপে তাদের ক্ষেত্রে ৮ গ্লাস পানি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ এসি শরীরের আদ্রতা টেনে নেয়।

রোগা হওয়ার জন্য অন্যতম অস্ত্র পানি খাওয়া। কারণ ফ্যাট জাতীয় যৌগ ঘাম এবং প্রস্রাবের সঙ্গে শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। রোগা হতে চাইলে নিয়ম করে পানি পান করুন।

ঢাকা টাই্মস/২৬মে/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত