অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এতিহ্যবাহী সলপের ঘোল

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ
 | প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৯, ১৩:০৯

পবিত্র মাহে রজমান উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী সলপের ঘোলের চাহিদা বেড়েছে, তার উপরে আবার ভাবসা গরম, সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের সময় রোজাদাররা চেষ্টা করেন সলপের ঘোল দিয়ে ইফতার করার। কিন্তু কেউ কি কখনো ভেবে দেখেছেন- আমরা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সলপের ঘোলের নামে কি খাচ্ছি?

সরেজমিনে দেখা গেছে, উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ রেল স্টেশনের সাথেই সলপ দই ঘরসহ বেশ কয়েকটি ঘোলের দোকান। এখানে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ঘোল। ঘোল তৈরির কাজে ব্যবহার করা নোংরা পাত্রগুলো পড়ে আছে যেখানে-সেখানে। ভালো করে পরিষ্কার না করেই একই পাত্রে আবার তৈরি করা হচ্ছে ঘোল। মাছি ও অন্যান্য পোকা-মাকড়ও মিশে আছে ঘোলের পাত্রের সাথে। সবার চোখের আড়ালে দোকানের পেছনের রুমে নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এই ঘোল। ঘোল ঘন করতে ব্যবহার করা হচ্ছে টয়লেট টিস্যুও।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তৈরি করা হচ্ছে ঘোল। জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে প্রতিদিন লোকজন এখানে আসেন ঘোলের জন্য। শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, বিভিন্ন জেলা থেকেও পাইকাররা সলপের ঘোল কিনে নিয়ে তা খুচরা বিক্রি করে থাকেন।

পাবনা থেকে আসা সুজীব সরকার বলেন, ‘আমি পাবনা থেকে এসেছি পাইকারি ঘোল কিনে নিয়ে এলাকায় খুচরা বিক্রি করি। সলপের ঘোলের একটা ঐতিহ্য আছে, তাই সবাই সলপের ঘোলই কেনে।’

নোংরা পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দেখছি এখানে নোংরা পরিবেশে ঘোল তৈরি হচ্ছে, কিন্তু আমার এলাকার কেউ তো তা দেখছে না। তাই আমাকে কেউ বলে না আর আমারও সমস্যা হয় না।’

সলপ দই ঘরের মালিক আ. খালেক বলেন, ‘আমরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘোল তৈরি করি না এবং ঘোলে টয়লেট টিস্যু ব্যবহার করি না। এখানে সব পরিষ্কার আছে। তবে এই গরমে সবকিছু তো আর ঠিক রাখা সম্ভব হয় না এইটুকু হবেই।’

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘোল তৈরি করায় সাত হাজার টাকা জরিমানা ও সর্তক করা হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা আবারো ভ্রাম্যামাণ আদালত পরিচালনা করে প্রায়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

(ঢাকাটাইমস/২৭মে/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :