ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ১৫:৩০ | প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৯, ১৩:৩৮

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার মামলায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আগামী ১৭ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন।

এর আগে সোমবার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা এ প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন।

মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন নিজেই প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ করে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে শুনানি করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের মতামতে বলা হয়, বাদীর দাখিলকৃত মামলায় দুই সাক্ষী এবং ঘটনা সংশ্লিষ্টে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। মামলার ভিডিও ছড়িয়ে দেয়াসংক্রান্তে বিশেষজ্ঞ মতামত এবং দালিলিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গত ২৭ মার্চ বেলা ১টা ১৮ মিনিটের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল দ্বারা থানায় আগত ভিকটিম নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্যের ভিডিও ধারন করেন, যাতে ভিকটিমের ব্যক্তিগত তথ্য পরিচিতি প্রকাশ পায়। এ অপরাধে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়। এছাড়া ধারণকৃত ভিডিও গত ৮ এপ্রিল শেয়ারইট অ্যাপসের মাধ্যমে সজল নামক ডিভাইসে পাঠিয়ে প্রচার করায় একই আইনের ২৯ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়।

অন্যদিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তিগত মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা ডিজিটাল বিন্যাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির উপক্রম করায় একই আইনের ৩১ ধারায় অপরাধ করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভিকটিম নুসরাত অল্প বয়সের একটি মেয়ে এবং মাদ্রাসার ছাত্রী ছিলেন। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওসি মোয়াজ্জেমের আরও কৌশলী হয়ে নারী ও শিশুবান্ধব উপায়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন ছিল। তিনি একজন সুশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীর সদস্য হয়েও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভিকটিম নুসরাতের শ্লীলতাহানির ঘটনার বক্তব্য ভিডিও ধারণ ও প্রচার করে অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। যার ফলে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

মামলায় যে সব ধারায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ করা হয়েছে ওইসব ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী সুমান। তিনি বলেন, তিনটি ধারার প্রত্যেকটিতে পাঁচ বছর করে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল বাদী এ মামলা করলে ট্রাইব্যুনাল পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার পর মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠলে তাকে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

মামলায় অভিযোগ, নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার আগে গত ২৭ মার্চ নুসরাত যৌন হয়রানির অভিযোগ করলে পুলিশ নুসরাত ও আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদদ্দৌলাকে এক সঙ্গে থানায় নিয়ে যায়। সেই সময় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। যার ভিডিও ধারণ করা হয়। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি অত্যন্ত অপমানজনক এবং আপত্তিকর ভাষায় নুসরাতকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন। এমনকি ভিডিওর এক পর্যায়ে দেখা যায়, ওসি রাফিকে বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেছিল কি না জিজ্ঞেস করেন যা অত্যন্ত মানহানিকর। নুসরাতের মৃত্যুর পরদিন ১১ এপ্রিল বিভিন্ন ফেসবুক ও ইউটিউবসহ সোস্যাল মিডিয়ায় ওই ভিডিও ছেড়িয়ে দেয়া হয়। ওসির রুমে এমন ঘটনার উদাহরণ দেশে আর কী হতে পারে। মেয়েটা মরে গিয়ে বেঁচে গিয়েছে। বেঁচে থাকলে, এ ভিডিওর কারণে তার বাঁচা কঠিন হয়ে যেত। একটি মেয়ের অনুমতি ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের নামে যৌনহয়রানিমূলক আপত্তিকর মানহানিকর প্রশ্ন করা এবং তা ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া ডিজিটাল নিরাপত্ত আইনের ২৬ ধারার, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ একই আইনের ২৯ ধারার এবং উপরোক্ত কার্যের মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ওই আইনের ৩১ ধারার অপরাধ।

প্রসঙ্গত, অধ্যক্ষ সিরাজ উদদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা তুলে নেয়ার জন্য গত ৬ এপ্রিল রাফিকে মুখোশ পরা ৪/৫ জন চাপ প্রয়োগ করলে সে অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর মুখোমুখি থাকার পর গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যায়।

(ঢাকাটাইমস/২৭মে/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :