নওশাবার বিরুদ্ধে চার্জশিটের শুনানি ১৪ জুলাই

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৯, ১৯:২৬
ফাইল ছবি

মডেল অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমদের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে ফেসবুক লাইভে গুজব ছড়ানোর মামলায় আদালতে দাখিল করা চার্জশিটের মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে ওই চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আইনজীবী ইমরুল কাওছার বলেন, মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে তা আসামি নওশাবা জানেন না। তাই তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে তাকে আদালতে উপস্থিত হতে সময় দিতে হবে।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দিদার হোসেন সময় আবেদন মঞ্জুর করে ১৪ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেন।

সম্প্রতি ঢাকা সিএমএম আদালতে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ইন্সপেক্টর শওকত আলী সরকার এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চার্জশিটে কাজী নওশাবা ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটনোর জন্য মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ এবং প্রচার করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ (সংশোধনী) এর ৫৭ (২) ধারায় অপরাধ করেছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলাটিতে ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব। এরপর ওই বছর ৫ আগস্ট চার দিন এবং ১০ আগস্ট দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর একই বছর ২০ আগস্ট ঈদুল আজহার আগের দিন আদালতের ছুটির দিনে সিএমএম আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলে তিনি কারামুক্ত হন।

মামলায় বলা হয়, নওশাবা নিজের মোবাইল হতে নিজ নামীয় ফেসবুক আইডিতে ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট বেলা ৪টার দিকে উত্তরার ১৩নং সেক্টরের ৪নং রোডের ২নং বাড়ি থেকে অত্যন্ত আবেদনময়ী কণ্ঠে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করে বলেন, ‘আমি কাজী নওসাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই, একটু আগে জিগাতলায় আমাদের ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা সবাই একসাথে হোন। প্লিজ ওদেরকে প্রটেকশন দেন। বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে। প্লিজ আপনারা রাস্তায় নামেন। প্লিজ আপনারা রাস্তায় নামেন এবং ওদের প্রটেকশন দেন। এটা আমার রিকোয়েস্ট। আমি এদেশের একজন মানুষ, নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করছি যে, জিগাতলায় একটু আগে একটি স্কুলে একটি ছেলের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একটু আগে ওদেরকে অ্যাটাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ প্লিজ ওদেরকে বাঁচান। তারা জিগাতলায় আছে। আপনারা এখই নামবেন। আপনাদের বাচ্চাদেরকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। এটা আমার রিকোয়েস্ট। যে পুলিশরা আছে, তারা অবশ্যই বাচ্চাদের প্রটেকশন দেন। আপনারা প্লিজ কিছু একটা করেন। সরকার যদি দায়িত্ব নিতে না পারে। তাহলে জনগণ কিসের জন্য আছেন আপনারা। আমরা ৭১ এ পেরেছি, ৫২ তে পেরেছি এবারও পারবো। আমাদের দরকার নাই কাউকে।’

তার এই আহ্বান মুহূর্তেও মধ্যে দেশি বিদেশি সামাজিক ও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে ভাইরাল হয় ফলে জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা তার এই মিথ্যা প্রোপ্রাগন্ডার উৎস জানার জন্য ফোন করলে তিনি তার সপক্ষে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে ওই সময় জিগাতলায় ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ও পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের ভাবমূতি ক্ষুন্ন করার জন্য এবং জনসাধারণের অনিুভূতিতে আঘাত করার জন্য এইরূপ মিথ্য ও মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করেন।

(ঢাকাটাইমস/২৮মে/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :