কুষ্টিয়ায় হোস্টেলে ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, বিচার চায় পরিবার

কুষ্টিয়া প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ৩০ মে ২০১৯, ১৯:৩৯

কুষ্টিয়া দৌলতপুর টেসল বিদ্যালয়ের হোস্টেলের ভেতর ১০ম শ্রেণির ছাত্র আবু বিন রশিদের মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য রশিদ আত্মহত্যা করেছে। তবে, পরিবার বলছে, এ মৃত্যু নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তাদের ধারণা রশিদকে হত্যা করা হয়েছে। তাই রহস্য উন্মোচন ও প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

বৃহস্পতিবার ৩০ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলনে মো. নজরুল ইসলাম দেশবাসীর কাছে ছেলে হত্যার বিচার চান।

নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে আবু বিন রশিদ টেসল ইংরেজি মাধ্যমে দশম শ্রেণির ছাত্র। সে ওই স্কুলের হোস্টেলেই থাকে। সম্পূর্ণ স্কুল ও হোস্টেল সিসিটিভি দ্বারা কাভার করা। যে কোনো কার্যকলাপ সিসিটিভির আওতায় ধরা পড়ে। গত ২৪ মে শুক্রবার একটি মোবাইল কিনে দেই ছেলেকে। হোস্টেলে মোবাইল ব্যবহারের নিয়ম নেই। তাই তার মোবাইল কেনার ঠিক এক দিনের মাথায় মানে শনিবার তার মোবাইল জব্দ করা হয়।

শনিবার সেহেরির পর প্রধান শিক্ষক তার মোবাইল জব্দ করেন। মোবাইল জব্দ করার পর আমার ছেলে কিছুটা ভীত হয়ে রুমে ফিরে যায়। ২৫ মে শনিবার তার পরীক্ষা ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী সে ১১.৩০ এ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে হোস্টেলে যায়। জামা-কাপড় পাল্টে ১১.৫০ এর দিকে সে তার প্রধান শিক্ষকের কাছে মোবাইলটা চাইতে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে ১১.৫০ এর পর থেকে আর কোনো ফুটেজ নেই। এই ফুটেজ না থাকার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট জানতে চাইলে তারা বলে কারেন্ট ছিল না। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানা যায় বৈদ্যুতিক লাইন ঠিক করার জন্য তারা ২টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিয়েছিল। আমার কাছে স্কুল থেকে বিকেল ৩.২৮ একটা ফোন আসে এবং জানানো হয় আমার ছেলে গুরুত্বর অসুস্থ, আপনি দ্রুত স্কুলে চলে আসেন।

কিছুক্ষণে মধ্যে আবার ফোন দিয়ে জানানো হয় হাসপাতালে আসার জন্য। আমি এবং আামার পরিবার ছুটে যাই হাসপাতালে। গিয়ে দেখি আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায় আমার ছেলে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন পল্লী চিকিৎসক, সুইসাইডকৃত অনেক ভিকটিমকে দেখেছি, আমি আমার ছেলের লাশ দেখে তখনই বুঝেছি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে মারা গেছে। আমার ছেলের গলায় ফাঁসের দাগ যে জায়গায়, সে জায়গায় কোনো সুইসাইডকৃত ব্যক্তির ফাঁসির দাগ থাকে না, শুধু মাত্র গলার বাম পাশে দাগ ছিলো।
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ছেলে আব্বা আম্মা ডাকে অভ্যস্থ ছিল। অথচ তার সুইসাইড নোটে বাবা-মা লেখা ছিল যা আমার কাছে অসঙ্গতিপূর্ণ। কেন তার ডায়েরির পেজ ছেড়া ছিল! বিদ্যালয় ছাত্রাবাসের দুই ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজই বা গেল কই!

নিহতের বড় বোন নাহিদা পারভীন নুপুর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অসঙ্গতি তুলে ধরে বলেন, আমাদের ও প্রশাসনকে না জানিয়ে তারা লাশে হস্তক্ষেপ করেছে। আমার ছেলের হাতের লেখার সাথে সুইসাইড নোটের লেখার কোন মিল নাই।

নিহতের পিতা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার আলোকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২৮মে মানববন্ধন করতে চাইলে, দৌলতপুর থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম আমাকে ও আমার পরিবারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করেন। ওই দিন রাতেই ওসি নজরুল ইসলাম বদলি হয়ে যান।

এই ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত বলেন, ওসির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। হ্যাণ্ড রাইটিং যাচাই বাছাইয়ের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

মৃত্যুর কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর তা বোঝা যাবে। তবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই আমাদের মনে হয়েছে।
ঢাকাটাইমস/৩০মে/এসএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :