খালেদাকে শিষ্টাচার শেখান, ফখরুলকে তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৯, ১৬:৫৪

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘শিষ্টাচার বহির্ভূত’ বলে মির্জা ফখরুলের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে উল্টো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘শিষ্টাচার’ শেখানোর জন্য দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পরামর্শ দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।  

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিষ্টাচার আমাদের বিএনপির কাছে শিখতে হবে না। মির্জা ফখরুলকে বলব তার নেতৃত্বকে শিষ্টাচার শেখানোর জন্য। প্রধানমন্ত্রী গিয়ে খালেদা জিয়ার দুয়ারে পনের-বিশ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন, কিন্তু গেট খোলা হয়নি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী এবং টেলিফোন করেছেন। টেলিফোনে খালেদা জিয়া যে  ভাষায় কথা বলেছেন সেটি সমস্ত শিষ্টাচার বহির্ভূত ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফর নিয়ে রবিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘এই নাম (তারেক) নিতেও ঘৃণা লাগে। আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন তার শাস্তি কার্যকর হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যকে ‘শিষ্টাচার বহির্ভূত’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব যেকোনো শাস্তিপ্রাপ্ত আসামির শাস্তি নিশ্চিত করা। তারেক রহমান দুর্নীতির মামলায় ১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত ও একুশে আগস্ট হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। আদালত কারো বিরুদ্ধে দণ্ড দিলে তিনি যদি সরকারি কর্মকর্তাও হন, এমনকি সরকারদলীয় এমপিও হন তার বিরুদ্ধে শাস্তি কার্যকর করা সরকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অবশ্যই একদিন তারেকের শাস্তি কার্যকর হবে। সেটাই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। এখানে শিষ্টাচার বহির্ভূত হওয়ার কিছু হয়নি।’

এ সময় তথ্যমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে 'ঐক্য নেই' বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘যারা নিজেদের ঐক্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে তাদের আন্দোলনের ঘোষণা, সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য করার ঘোষণা হাস্যকর। ঐক্যফ্রন্টের অবস্থা দেখে আমার হাসিও পায়, আবার করুণাও হয়। তারা বার বার বলে আসছিলেন বৃহত্তর ঐক্য, জাতীয় ঐক্য এবং ফ্রন্টের নাম ঐক্যফ্রন্ট। এখন ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য নেই।’

‘ইতিমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের কয়েকজন নেতা জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ঐক্য ধরে রাখার জন্য নাকি তারা আজ বৈঠক ডেকেছে। আজকের বৈঠক ডাকার মাধ্যমে তাদের মধ্যে যে ঐক্য নেই সেটি আরও স্পষ্ট করে দেখালেন।’

বর্তমান সংসদকে রুমিন ফারহানা অবৈধ বলা প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন,  ‘এই কথা বলে তিনি নিজেই তো অবৈধ হয়ে গেলেন। বিএনপির কথাবার্তার ঠিক নেই। দলটির নেতারা একবার বলেন তারা শপথ নেবেন না। পরে তারা আবার শপথ নিলেন। তাদের মহাসচিব শপথ নিলেন। আবার সেই আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। সর্বশেষ ভাগে পাওয়া নারী আসনটিও ছাড়লেন না।’

(ঢাকাটাইমস/১০জুন/এনআই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত