থানায় যুবককে নির্যাতন, তিন পুলিশ সাসপেন্ড

প্রকাশ | ১৫ জুন ২০১৯, ২১:২৮

বগুড়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস

বগুড়ায় থানায় ডেকে যুবককে আটকে রেখে অমানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার শিকার শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার আহত সোহান বাবু আদরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। এ ঘটনায় জড়িত তিন পুলিশকে সাসপেন্ড করার পর বগুড়া পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে।

সমিতি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে বিরোধীপক্ষ থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ আদরকে গত বৃহস্পতিবার থানায় ডেকে আটক করে।

আদরের বাবা শহরের কালিতলা এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান ঢাকাটাইমসকে জানান, তার ছেলে আদর শহরের কাটনারপাড়া আলোরমেলা স্কুল এলাকার সাথী বানু ও বাপ্পী মিয়ার সাথে গোয়ালগাড়ীতে সমিতির ব্যবসা করে আসছিল। সমিতির নাম আল ফালাহ বহুমুখী। তিনজনই সমিতির পরিচালক ছিলেন। সমিতিতে আদরের ৪০ ভাগ এবং ওই দুজনের ৬০ ভাগের মালিকানা ছিল। কিন্তু তাদের সাথে আদরের বনিবনা না হওয়ায় আদর সমিতি ছেড়ে চলে আসে। এর এক পর্যায়ে সাথী বানু সদর থানায় অভিযোগ দেয়। এরপর পুলিশের কনস্টেবল এনামুল গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় আদরকে মোবাইল ফোনে থানায় ডেকে হাজতে আটক রাখে। পরদিন শুক্রবার দুপুর ১২টায় একটি নতুন কক্ষে আদরের হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে পাশে একটি পিলারের সাথে বেঁধে রেখে ১১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করলে এসআই জব্বার ও এএসআই এরশাদ ও কনস্টেবল এনামুল মিলে আদরকে লাঠি দিয়ে নিতম্ব থেকে পা পর্যন্ত বেধড়ক পেটায়। এক পর্যায়ে আদর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর আদরের বাবাকে অভিযোগকারী সাথীর মাধ্যমে থানায় ডাকা হয়। বলা হয়, আপনার ছেলেকে থানায় কোন শাসন করা হয়নি, সে সুস্থ আছে এটা লিখে দিয়ে ছেলেকে নিয়ে যান। এ সময় সাথী বানু ও বাপ্পী মিয়া সমিতি বাবদ ১১ লাখ টাকা আদরের কাছ পাবে এমন মুচলেকা লিখে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে এসআই আব্দুল জোব্বার ও এএসআই এরশাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কনস্টেবল এনামুল হক বলেন, ‘আমি সামান্য চড়-থাপ্পর মেরেছি মাত্র।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম বদিউজ্জামান ঢাকাটাইমসকে জানান, আদরকে আটকের পর জেনেছিলাম তাকে ইভটিজিংয়ের অপরাধে আটক করা হয়েছে। তাকে এভাবে মারপিট করা হয়েছে জানতাম না। থানায় এভাবে কাউকে মারধর করার এখতিয়ার কারো নেই। বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয়কে জানানোর পর তার নির্দেশে অভিযুক্ত তিনজনকে সাসপেন্ড করে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৫জুন/এলএ)