উন্নয়নের পথে বড় বাধা নারী নির্যাতন: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ জুন ২০১৯, ২৩:৩১

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধান পুরুষের সাথে নারীর সমঅধিকার প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া নারীরা প্রায় প্রতিনিয়ত পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হন। এই নারী নির্যাতন আমাদের কাক্সিক্ষত জাতীয় উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা।’

রবিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটরদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রশিক্ষণে ৪৪ জন প্রসিকিউটর অংশ নেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পূর্বের ৫৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ২৯টি জেলায় আরো ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করে সেগুলোতে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

‘নতুন ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী জনগণের মনে নতুন করে আশা জেগেছে যে, তারা স্বল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে ও সহজে ন্যায় বিচার পাবেন। আমার বিশ্বাস, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় আমরা তাদের এই নতুন আশা পূরণ করতে সক্ষম হবো।’

বিগত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে নতুন করে মামলা জট তৈরি হয়নি উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘বিচারাধীন ১,৮৩১টি মামলা কমেছে। গত দুই বছরের মামলার পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন মামলা ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮২টি। ২০১৯ সালের একই সময়ে এসে সেখানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫১টি।’

মন্ত্রী বলেন, আমরা কোন বিচারপ্রার্থীকে বছরের পর বছর ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরতে দেখতে চাই না।

অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে পার পেয়ে যাওয়ার পরিণাম ভয়াবহ হয় বলে উল্লেখ করে বলেন, দেখা গেছে ধর্ষণ মামলায় শেষ পর্যন্ত নগণ্যসংখ্যক আসামির সাজা হয়। বাকিরা প্রভাব-প্রতিপত্তি, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় ভিকটিমকে হয়রানি, সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব, বাদী পক্ষের সঙ্গে আসামিপক্ষের সমঝোতা ইত্যাদি কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে।’

‘যেকোনো উপায়ে আমাদের অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা কমাতে হবে। নইলে আমাদের উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যই ব্যহত হবে। আপনারা দেশ ও জাতির স্বার্থে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদানে সহায়তা করে অপরাধ দমনে এগিয়ে আসুন। একজন অপরাধীও যাতে আইনের ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে বিচার এড়াতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন।

বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রসিকিউটরদের উদ্দেশ্যে আনিসুল হক বলেন, আপনাদেরকে অবশ্যই আদালতের সময় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তাছাড়া মামলা জট কমানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

বিচার বিভাগকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসডিজি এবং ভিশন ২০২১ এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগকে সব সহযোগিতা করে আসছে। আমরা উচ্চ আদালতের মতো অধস্তন আদালতেও একটি প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন করার কথা ভাবছি। তাই আপনাদের ভাতা ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

‘বিচারপ্রার্থী জনগণ আপনাদের নিকট যেন সবরকম সহোযোগিতা পায় সে বিষয়ে সজাগ থাকবেন। আদালত অঙ্গনে দুর্নীতি সংক্রান্ত সকল প্রথাগত কর্মকা- পরিহার করে সততা, স্বচ্ছতা এবং সাহসিকতার সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও বক্তৃতা করেন।

ঢাকাটাইমস/ ১৬ জুন/এএ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত