পুলিশে অভিনেতা ‘আজিজ ভাই’

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ১৪:৩৪ | প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০১৯, ১৪:০৪

অভিনয় ভালো লাগে তার। নিজেকে খুঁজে পান মঞ্চে কিংবা ক্যামেরার সামনে। গানও গাইতে পারেন ভালো। তার কণ্ঠের মন্ত্রমুগ্ধতা অনেকের মনে দাগ কেটেছে। এসব গুণের কারণে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত আব্দুল আজিজ মন্ডল সবার প্রিয় ‘আজিজ ভাই’। তার ভাষায়, দুই দশকের বেশি সময় চাকুরি করেও ‘পুলিশ’ হতে পারেননি তিনি।

অহর্নিশ দায়িত্ব পালন করতে হয়। পুলিশের চাকরিতে ছুটি-ছাটা খুবই কম। এর মাঝেও ফুসরত করে নেন অভিনয়ের। দু-একদিনের ছুটি নিয়ে ছোটেন শ্যুটিংয়ে। এই মধ্যে পনেরটির বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। প্রচারিত হয়েছে ১৩টি। অভিনয়ের জন্য আলোচিত হয়েছেন। পেয়েছেন সুনাম। সম্প্রতি একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন আব্দুল আজিজ। ছবিটির শ্যুটিং প্রায় শেষদিকে। এরপর মুক্তির অপেক্ষা।

সদ্য গত  জ্যৈষ্ঠের এক দুপুরে কথা হয় তার সঙ্গে। অভিনয়ে আসার গল্পটি তখন শোনালেন তিনি নিজেই। বললেন “অভিনয় শুরু ২০১৪ সালে। পুলিশের ডিআইজি ছিলেন মাহফুজুল ইসলাম রঞ্জু স্যারের হাত ধরে। তখন তিনি টাঙ্গাইলের মহেরা ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ডেন্ট। আমি সেখানে একটা কোর্সে যাই। একবার তার বন্ধু গাজীপুরের সাবজজ মহেরায় আসেন। তিনি আমার একটা ইন্টারভিউ নেওয়ার পর বলেন, তুমি একটা পাকা অভিনেতা। রঞ্জু স্যার একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সংস্কৃতিমনা মানুষ। সেই জজ সাহেব স্যারকে বলেন, ‘রঞ্জু তুমি এই ছেলেটাকে অভিনয়ে নাও। ও ভালো করবে।’ রঞ্জু স্যার আমায় সুযোগ দিলেন। তার প্রযোজিত ‘অ্যাস্ট্রোলজার’ নাটকে আমি অভিনয় করলাম। ওই নাটকের মুখ্য চরিত্র জ্যোতিষী চরিত্রে অভিনয় করি। আমার সঙ্গে ছিলেন আফরান নিশো ও মৌসুমি হামিদ।” 

ছাত্রজীবনে মঞ্চে কাজ করেছেন। যাত্রা মঞ্চেও উঠেছেন। জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলালে ঝংকার ক্লাবেই হাতেখড়ি হয় আব্দুল আজিজের। বগুড়াতেও মঞ্চে অভিনয় করতেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি নাটক হচ্ছে-  ‘অ্যাস্ট্রোলজার’, ‘বসন্তের শেষ বিকেল’, ‘রূপকথার আংটি’, ‘বেঁচে থাকুক আমাদের ভালোবাসা’, ‘নিশিকুটুম’। এই নাটকগুলো ইউটিউবে তোলা আছে। 

বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে আছেন আব্দুল আজিজ। পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও কী করে অভিনয়ে সময় দিচ্ছেন? জানতে চাইলে আব্দুল আজিজ হেসে জবাব দেন, ‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। মন চায় তাই যে করেই হোক, সময় বের করেনিই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আমায় সহযোগিতা করেন।’

প্রথমবারের মতো সিনেমায় অভিনয়ের কথাও বললেন তিনি। জানালেন, চিত্র পরিচালক খন্দকার সুমনের পরিচালনায় এই প্রথম উত্তর অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। নাম ‘সাঁতাও’। সাঁতাও নামটির ব্যাখ্যাও দিলেন তিনি। টানা পাঁচদিন-সাতদিন যখন বৃষ্টি হয়, ওই সময়টাকে উত্তরাঞ্চলে বলে সাঁতাও পড়ছে। সেই থেকে এই সিনেমার নামকরণ করা হয়েছে। সিনেমাটিতে আব্দুল আজিজ একজন পেশাদার গরুর দালালের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

প্রথমবারের মঞ্চে ওঠার অভিজ্ঞতাও জানালেন পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ। বললেন, ‘যখন প্রথম মঞ্চে উঠি আমার পা আর চলছিল না। মনে হচ্ছিল, গোটা দেশসহ আমি থরথর করে কাঁপছি। তখন আমি এসএসসি পাস করেছি। এরপর একের পর এক মঞ্চ নাটক ও যাত্রাপালায় অভিনয় করেছি। ‘তাসের ঘর’, ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’, ‘কে দিবে কবর’, ‘মা-মাটি-মানুষ’, ‘গাঁয়ের ছেলে’, ‘সমাজ’ তখন খুবই জনপ্রিয় পালা ছিল।’ ১৯৯৭ সালে সাধারণ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন আব্দুল আজিজ ম-ল। বর্তমানে তিনি উপ-পরিদর্শক পদে কর্মরত আছেন।

চাকরি শেষে বাকি জীবনটাও মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান তিনি। রহস্য করে বললেন, ‘২৩ বছর পুলিশে কাজ করছি। আমি আসলে এখনো পুলিশ হতে পারিনি। মানুষকে ভালোবেসে এ পর্যন্ত এসেছি। মানুষের ভালোবাসাও পেয়েছি। এর মধ্যে তৃপ্তি আছে। মানুষকে ভালোবেসেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চাই।’  

(ঢাকাটাইমস/ ১৮ জুন/ এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :