সুন্দরবনে বনরক্ষীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

খুলনা ব্যুরো
 | প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৯, ০৮:৪১

সুন্দরবনকে প্রধানমন্ত্রী দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর উপকূলীয় অঞ্চলের বনজীবীদের মধ্যে ফিরে এসেছিল স্বস্তির নিশ্বাস। যুগ যুগ ধরে বনদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়ে সর্বস্ব হারানো অসহায় মানুষগুলো গত ১ নভেম্বর দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর থেকে নির্বিঘœœ ও নিরাপদে জীবিকা নির্বাহে সুন্দরবনে ছুটছেন। তবে তাদের এই স্বস্তির জায়গায় নতুন আতঙ্ক ভর করেছে। সুন্দরবন রক্ষায় নিয়োজিত খোদ বনরক্ষীদের হাতে এখন জিম্মি এসব অসহায় মানুষ।

যদিও আগে থেকেই বনরক্ষীদের চাঁদার ‘সিস্টেম’ চালু ছিল, কিন্তু দস্যুমুক্তির পর তার মাত্রা এখন অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন অসাধু বনরক্ষীরা। অথচ জীবিকা নির্বাহের জন্য জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বনজীবীরা সরকারি নিয়মকানুন মেনে পাস-পারমিট নিয়ে সুন্দরবনের ভেতরে ঢোকেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১৪ জুন সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের পাটকোস্টা টহল ফাঁড়িতে মৎস্যজীবীদের জিম্মি করে চাঁদা নেন বনরক্ষীরা। ওই টহল ফাঁড়ির মোস্তাফিজুর রহমান (বাগানমালি) ও বনপ্রহরী অসিম কুমার ১০টি মৎস্য নৌকা ও তার জেলেদের আটকে রেখেছিলেন। এরপর তাদের চাহিদা অনুযায়ী দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে মহাজনরা নৌকাসহ জেলেদের মুক্ত করেন। মোস্তাফিজুর রহমান তার নিজের ব্যববহৃত মোবাইল ফোনের নম্বরের পারসোনাল বিকাশে এসব চাঁদার টাকা নিয়ে থাকেন বলে বনজীবীদের কাছ থেকে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী বনজীবীরা আরও জানান, ১৪ জুন পাটকোস্টা টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ আবুল কামাল সেদিন স্টেশনে অনুপস্থিত ছিলেন। জেলেরা ওই টহল ফাঁড়িতে খাবার পানি সংগ্রহের জন্য গেলে মোস্তাফিজুর রহমান (বাগানমালি) ও বনপ্রহরী অসিম কুমার ১৩টি নৌকাসহ ২৬ জনকে জিম্মি করে রাখেন। প্রতিটি নৌকা ও জেলের সরকারি পাস-পারমিট থাকায় তাদের অন্য ভয় দেখানো হয়- নিষিদ্ধ অভয়ারণ্যে প্রবেশের অপরাধ এনে মামলা ঠুকে দেয়ার ভয়। পরে ১০টি নৌকা ও জেলেদের মহাজনরা যোগাযোগ করে নৌকাপ্রতি ১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দেন।

বনজীবীরা জানান, আগে বনদস্যুরা অপহরণ করে চাঁদা নিত। প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করার পর কিছুদিন ভালোই যাচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বনদস্যুর জায়গা নিয়েছে বনরক্ষীরা। আমাদের ওপরে বনরক্ষীদের আগ্রাসন বেড়ে গেছে। দস্যুদের মতোই তাদের আচরণ, টাকা না দেয়া পর্যন্ত কোনোা রক্ষা নেই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বনরক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন বলেন, সুন্দরবনে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :