সেতু ভেঙে সিলেটের পথে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে

মনিরুজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে
 | প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৯, ১৮:১৭

ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর নির্মিত পুরনো সেতু ফুটপাতসহ রেলিং ভেঙে পড়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ওই পথে বিভিন্ন জেলার সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই পথের যাত্রীরা।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  বুধবার সন্ধ্যায় জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উপসহকারী প্রকৌশলী ভুইয়া রেদওয়ানুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, সেতুর মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। শনিবারের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করেন তিনি।

এদিকে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণার পরও শতশত গাড়ি জমা হয় সেতুর দু-পাশে। ফলে কয়েক কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তী নির্দেশনা দেয়া না পর্যন্ত যানবাহনগুলোকে বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের লাখাই-হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ক ব্যবহার করার জন্য বলেছে সওজ।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন ঢাকাটাইমসকে জানান, শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর পুরাতন সেতুর চতুর্থ স্পেনের ফুটপাতসহ রেলিং ভেঙে পড়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, সেতু বন্ধ ঘোষণার পর মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই বিকল্প সড়ক দিয়ে সিলেটমুখী যান চলাচল করছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরাইল-নাসিরনগর এলাকায় সড়কটি মহাসড়কের মতো প্রশস্ত এবং বিপুল পরিমাণ যানবাহন চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় মাঝে মাঝে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

এমনকি প্রতিদিন চলাচলকারী যানবাহনগুলোও চলাচলের বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এছাড়া সরাইল-নাসিরনগরের ফাঁড়ি সড়ক দিয়ে মহাসড়কের দ্রুতগামী যানবাহন চলাচল করায় ঘনঘন মারাত্মক দুর্ঘটনার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে বিশ্বরোড খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি হোসেন সরকার বলেন, বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।

এদিকে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি ওই দিনই মোট ৬০ মিটার সিঙ্গেল-সিঙ্গেল মেবি জনসন বা অন্য কোনো ধরনের বেইলি সরবরাহ করার জন্যে সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ‘অতীব জরুরি’ চিঠি পাঠিয়েছেন সড়কের কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী।

এতে বলা হয় সেতুর স্ট্রাকচার ঝুকিপূর্ণ থাকায় এর পঞ্চম স্পেনের ওপর ৩০ মিটারের দুটি বেইলি স্থাপন করা হয়েছে।

এই চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় পুরাতন সেতুটির পাশেই নতুন একটি সেতু নির্মাণাধীন। যার কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন সেতু যানবাহন চলাচলের জন্যে খুলে দেয়া হবে।

তিতাস নদীর ওপর ১৯৬৩ সালে নির্মিত শাহবাজপুর সেতুর (পুরাতন) মাঝখানে বেইলি সেতু বসিয়ে কোনো রকমে যান চলাচল স্বভাবিক রাখা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। মাঝে-মধ্যেই বেইলি সেতুতে ওঠার সময় চাকা দেবে গিয়ে যানবাহন আটকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সওজ বিভাগ সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সেতুর দুই পাশে ১৫ টনের অধিক ওজনের যানবাহন চলাচল নিষেধ করে সাইনবোর্ড টানিয়েছে।

তবে সওজের এই নির্দেশনা না মেনে প্রতিনিয়ত ১৫ টনের অধিক যানবাহন সেতু দিয়ে চলাচল করে। এ কারণেই প্রায়ই সেতুর সমস্যার কারণে এ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

(ঢাকাটাইমস/১৯জুন/ইএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :