নুরুল্লাহর রিকশাটি ফেরত দিল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৯, ২১:৫০

ট্রেন দুর্ঘটনায় এক হাত ও পা হারানো নুরুল্লাহর জীবিকা উপার্জনের রিকশাটি ফেরত দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার রিকশাটি পুলিশ ফেরত দিয়েছে বলে ঢাকাটাইমসকে জানান নুরুল্লাহ।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নুরুল্লাহর রিকশাটি খিলগাঁও এলাকা থেকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশ। ঘটনার পরপরই নুরুল্লাহ ঢাকাটাইমসে ফোন করে তার রিকশা জব্দ করার বিষয়টি কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে জানিয়েছিলেন। পরে তার মোবাইল ফোনটিও পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল। অবশ্য কিছু সময় পর সেটি ফেরত দেয়।

নুরুল্লাহর বাড়ি জামালপুরে। ঘরে স্ত্রী। দুই সন্তান। দুজনই মেয়ে। বড় মেয়েটার বয়স আট বছর। প্রতিবন্ধত্ব তার জন্ম সহোদর। কথা বলতে পারে না। হাঁটতেও পারে না। বাঁ পা-টা ডান পায়ের তুলনায় চিকন।

দু হাত-পায়ে তিন চাকা টেনে চারজনের খাওয়া-পরার জোগান দিতেই বাবা নুরুল্লাহর গলদঘর্ম। তার ওপর মেয়ের এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসা টেনে নেওয়া দুঃসাধ্যই বটে।

স্ত্রী-সন্তানরা গ্রামে থাকেন। নুরুল্লাহ থাকেন ঢাকার খিলগাঁওয়ে। মেসে। রিকশা চালান। এক যুগের বেশি সময় ধরে চলছে তার জীবনের এই যুদ্ধ। ভিক্ষাবৃত্তি নয়, আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচবেন বলেই নেমেছিলেন এই পথে।

নুরুল্লাহর রিকশা আটকের বিষয়টি নিয়ে ঢাকাটাইমসে নিউজের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টিকে মানবিকভাবে দেখার আবেদন জানান অনেকে। আর সেটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তাদেরও নজরে আসে। এরপরই নুরুল্লাহ তার রিকশা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি জানান।

এর আগে সন্ধ্যায় নুরুল্লাহর রিকশা আটকের বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) রাকিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার দাবি, নুরুল্লাহ যেটা করছেন সেটা ঝুঁকিপূর্ণ।

বলেন, ‘আমাদের করণীয় হচ্ছে, কেউ যেন ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চালিয়ে অন্যের প্রাণহানি না করে। এ জন্য ব্যাটারি খুলে দেওয়া হয়। তাদের তো নিজের ওপরই কন্ট্রোল নাই, প্রতিবন্ধী মানুষ। ওই গাড়ি তো সে ব্রেক করতে পারবে না। অ্যাক্সিডেন্ট করবে। তাই আমাদের নির্দেশ হচ্ছে এই ধরনের লোক পাওয়া মাত্র তার ব্যাটারি খুলে গাড়ি জব্দ করা। এ জন্য আমরা অভিযান শুরু করেছি।’

তাহলে এরা কী করে বাঁচবে- এমন প্রশ্নে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিবন্ধী বলে এরা মেইন রোডে উঠে যায়। সেখানে লরি চলে, দ্রুত গতির গাড়ি চলে। মহল্লার মধ্যে আমরা ওভারলুক করি। মেইন রোডে আসলে আমরা বাঁধা দেই।’

ঢাকাটাইমস/১৯জুন/ইএস

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :