‘জাহাজ দেখে সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম’

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৯, ০৮:৪০
ফাইল ছবি

সাগরে তিন সপ্তাহ ভেসে থাকার পর উদ্ধার হওয়া ১৭ বাংলাদেশি ফিরেছেন তিউনিসিয়া থেকে৷ ঢাকায় বিমানবন্দরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার তাদের বাড়ি ফিরতে দেয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ৷

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে তিন সপ্তাহ ধরে তিউনিসিয়ার সাগরে ভেসেছিলেন ৭৫ জন৷ তাদের মধ্যে ৬৪ জনই বাংলাদেশি৷ তিউনিসিয়া তাদের উপকূলে ভিড়তে দিলেও আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি৷ অবশেষে তাদের মধ্য থেকে ১৭ জন বাংলাদেশিকে শুক্রবার বিকালে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ বাকিরাও শিগগির ফিরে আসবেন বলে জানা গেছে৷

ফিরে আসা বাংলাদেশিদের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার রাতভর ইমিগ্রেশন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন৷ শনিবার তাদের ছেড়ে দেয়া হয়৷

তাদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইদ্রিস জমাদ্দার ঘটনার বর্ণমা দিলেন ডয়চে ভেলের কাছে৷ ইদ্রিস বলেন, ‘আমাদের মাছের জাহাজে করে ইতালি পাঠানোর কথা ছিল৷ কিন্তু ৩০-৩৫ জন বহন করতে পারে এমন একটি দোতলা নৌকায় আমাদের উঠানো হয়। নৌকার তলায় ৩০ জন এবং ৪৫ জনকে উপরে তোলা হয়৷ নৌকার তলা ফুটা হয়ে গিয়েছিল৷ আমরা ইতালির জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত যেতে পেরেছিলাম৷ তখন আমাদের নৌকার তেল শেষ হয়ে যায়৷ নৌকাটি সাগরে ডোবার উপক্রম হয়৷ কিন্তু কোনো জাহাজই আমাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি৷ আমরা খাবার ও পানির কষ্টে পড়ি৷ আমরা নৌকাসহ সাগরে ভাসতে থাকি৷ এক পর্যায়ে আমিসহ কয়েজন একটি জাহাজ দেখে সাগরে ঝাঁপ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই৷ আমরা সিদ্ধান্ত নিই হয় বাঁচবো, না হয় মরবো৷ এরপর আমরা ১৫-১৬ জন সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়লে ওই জাহাজটি আমাদের উদ্ধার করে তিউনিসিয়া উপকূলে নিয়ে যায়৷ পরে অন্যদেরও উদ্ধার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আগেও একজন সাগরে পড়ে গিয়েছিল৷ আমরা ভেবেছিলাম তিনি মারা গেছেন৷ পরে তাকেও উদ্ধার করা হয়।’

ডয়চে ভেলেকে ইদ্রিস বলেন, ‘আমি এক বছর আগে লিবিয়া যাই৷ সেখানে ছয় মাস কাজ  করার পর আমাদের আটকে রাখা হয়৷ আমাদের বাড়িতে যোগাযোগও করতে দেয়া হতো না৷ এরপর ২৭ মে আমাদের দালাল লিবিয়ার জোয়ারা থেকে নৌকায় ইতালি পাঠানোর উদ্যোগ নেয়৷ দালাল আমার কাছ থেকে আট লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে৷ তবে অনেকের কাছ থেকেই ৯-১০ লাখ টাকা নিয়েছে৷ আমরা সবাই প্রতারণার শিকার।’

সম্প্রতি দালালরা আরও অনেককে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় নিয়ে গেছেন বলেও জানান ইদ্রিস৷ তাদেরও সাগরপথে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি৷

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রফিকুল ইসলামের বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ৷ বেগমগঞ্জে তাদের যে জমিজমা ছিল তা বিক্রি হয়ে গেছে৷ এখন তার বাবা-মা, ভাই বোন মুন্সীগঞ্জে নানা বাড়িতে থাকেন৷ তাকে কেউ বিমানবন্দরে নিতেও আসেননি৷ সকালে তিনি একাই মুন্সীগঞ্জ রওয়ানা হন৷ এর আগেই এয়ারপোর্ট থেকে ফোন রফিকুল ফোন করেন তার ভাই মোহাম্মদ জাহিদকে৷

জাহিদের সঙ্গে কথা হয়েছে ডয়চে ভেলেরও৷ তিনি জানান, চার মাস আগে আমাদের শেষ সম্পদ এক টুকরো জমি বিক্রি করে তাকে (রফিকুলকে) লিবিয়া পাঠানো হয়৷ প্রথমে এক মাস বেনগাজি ছিল৷ পরে সেখান থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে রুমের মধ্যে আটকে রাখা হয়৷ প্রথমে দালালরা পাঁচ লাখ টাকা নেয় লিবিয়া পাঠানোর জন্য৷ লিবিয়া নেয়ার পর সেখানে যুদ্ধের কথা বলে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আরও তিন লাখ টাকা নেয়৷

লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর নামে এই প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে৷ চক্রটি একি সঙ্গে বাংলাদেশ ও লিবিয়াতে সক্রিয়৷

মে মাসে আরেক ঘটনায় তিউনিসিয়ার সাগরে নৌকাডুবিতে বাংলাদেশের ৩৯ জন নাগরিক নিখোঁজ হন৷ তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে৷ ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে৷ তারাও লিবিয়া থেকে দালালের মাধ্যমে ছোট নৌকায় করে ইতালির পথে রওয়ানা হয়েছিলেন৷-ডিডব্লিউ

(ঢাকাটাইমস/২৩জুন/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :