ভারতে চার বছরে দৈনিক ৮ জন কৃষকের আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৯, ১২:০৯

তীব্র খরা ও পানি সঙ্কটের কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন ভারতের কৃষকরা। এমন অবস্থায় ঋন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন তারা। এমন অবস্থায় প্রায়ই আত্মহত্যা করেন কৃষক। সম্প্রতি কৃষকদের আত্মহত্যার এ তথ্যে উঠে এসেছে যে, গত চার বছরে গড়ে দৈনিক আট জন করে কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।

গত চার বছরে ১২ হাজার ২১ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন দেশটির মহারাষ্ট্র রাজ্যে। যা তার আগের চার বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ! চমকে দেওয়া এই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী সুভাষ দেশমুখ।

বিধানসভায় ওঠা প্রশ্নের উত্তরে দেওয়া এই হিসেব থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমায় আত্মহত্যা করেছেন ৬ হাজার ২৬৮ জন কৃষক। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২১ জনে। ঋণের ফাঁদ থেকে শস্যের পর্যাপ্ত ফলন না হওয়া- নানা কারণে এই সব আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এ বছরের শেষে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন। বিজেপি সেখানে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করতে চাইছে। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে সামনে আসছে বেড়ে চ‌লা কৃষক আত্মহত্যার এই ইস্যু। গত চার বছরে বেশ কয়েকবার কৃষকরা মুম্বাই পর্যন্ত মিছিল করেছে। কিন্তু সরকারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও মহারাষ্ট্রের কৃষক মৃত্যু হ্রাসের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। সুভাষ দেশমুখের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের প্রথম তিন মাসে ৬১০ জন কৃষককে আত্মহননের পথই বেছে নিতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা এই মৃত্যু মিছিলের জন্য সরকারি প্রকল্পগুলির ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ৮ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে জলযুক্ত শিভারের (জল সংরক্ষণ প্রকল্প) জন্য। ১৮ হাজার ৬৪৯টি গ্রামে কাজ সম্পূর্ণও হয়ে গিয়েছে। মহারাষ্ট্রের জলকষ্ট বিপুল আকার ধারণ করেছে। জলস্তর নেমে গিয়েছে ৬.১১ শতাংশ, যাকে যথেষ্ট আশঙ্কাজনক বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারের আরও একটি প্রতিশ্রুতি ‘ট্যাঙ্কার-মুক্ত মহারাষ্ট্র’ ২০১৯ এর মধ্যে সম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের ঋণ মকুব প্রকল্পও কৃষক আত্মহত্যায় রাশ টানতে পারেনি। ১২ হাজার ২১ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৫০০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ২০১৭ সালের জুন মাসে ওই প্রকল্প চালু হয়ে যাওয়ার পরেও।

ঢাকা টাইমস/২৪জুন/একে

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :