ওসি মোয়াজ্জেমকে ডিভিশনে কারাবিধি অনুসরণের নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৯, ১৭:২১

কারাগারে থাকা সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাগারে ডিভিশন দেয়ার বিষয়ে কারাবিধি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন জেল সুপারকে এ নির্দেশ দেন।

মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানিসংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার মামলায় কারাগারে আছেন ওসি মোয়াজ্জেম। তার পÿে কারাগারে প্রথম শ্রেণির কয়েদির মর্যাদা দেয়ার আবেদন করেন আইনজীবী ফারুক আহমেদ।

শুনানিতে আইনজীবী বলেন, আসামি মোয়াজ্জেম হোসেন ওসি হিসেবে নবম গ্রেডের অফিসার। তিনি এখনো চাকরিরত। ২০১২ সালের ৩০ জুলাইয়ের গেজেট অনুযায়ী তিনি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ও নাগরিক। তাই তিনি কারাগারে প্রথম শ্রেণির কয়েদির মর্যাদার সব সুযোগ সুবিধা পেতে পারেন। 

এর আগে গত ১৬ জুন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তার হন এবং ১৭ জুন তাকে একই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই বিচারক।

আগামী ৩০ জুন এ মামলায় চার্জগঠনের দিন ঠিক আছে এবং ওইদিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আদেশ আছে।

গত ২৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দায়ের করা এ মামলায় দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ওইদিনই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদীর দাখিলকৃত মামলায় দুইজন সাÿী এবং ঘটনা সংশিøষ্টে ১২ জন সাÿীর সাÿ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া সংক্রান্তে বিশেষজ্ঞ মতামত এবং দালিলিক সাÿ্যরে মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গত ২৭ মার্চ বেলা ১টা ১৮টায় তার ব্যবহৃত মোবাইল দ্বারা থানায় আগত ভিকটিম নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন, যাতে ভিকটিমের ব্যক্তিগত তথ্য পরিচিতি প্রকাশ পায়। এ অপরাধে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়। এছাড়া ধারণকৃত ভিডিও গত ৮ এপ্রিল শেয়ারইট অ্যাপের মাধ্যমে সজল নামক ডিভাইসে পাঠিয়ে প্রচার করায় একই আইনের ২৯ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়।

অন্যদিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তিগত মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা ডিজিটাল বিন্যাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির উপক্রম করায় একই আইনের ৩১ ধারায় অপরাধ করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভিকটিম নুসরাত অল্প বয়সের একটি মেয়ে এং মাদ্রাসাছাত্রী ছিলেন। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওসি মোয়াজ্জেমের আরও কৌশলী হয়ে নারী ও শিশুবান্ধব উপায়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন ছিল। তিনি একজন সু-শৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীর সদস্য হয়েও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভিকটিম নুসরাতের শøীলতাহানির ঘটনার বক্তব্য ভিডিও ধারণ ও প্রচার করে অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। যার ফলে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ÿুণœ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, অধ্যÿ সিরাজ উদদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা তুলে নেয়ার জন্য গত ৬ এপ্রিল রাফিকে মুখোশ পরা ৪/৫ জন চাপ প্রয়োগ করলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর মুখোমুখি থাকা অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি মারা যান।

(ঢাকাটাইমস/২৪জুন/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :