‘এটা কোর্ট, টেমপার হারাবেন না’

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৯, ১৯:০৮
ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আগামী ২ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। এ নিয়ে এই মামলায় ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।

সাক্ষীরা হলেন- তৎকালীন গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আ. আহাদ, গুলশান ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিন, ঢাকা ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ওবায়দুল হক, বনানী থানার এসআই মাহাবুব আলম ও বনানী থানার এএসআই মো. বিল্লাল ভুইয়া।

ট্রাইব্যুনালে এদিন প্রথম সাক্ষ্য দেন মো. আ. আহাদ। তিনি জবানবন্দিতে বলেন, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে হলি আর্টিজার রেস্টুরেন্টের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারি। ৫-৭ মিনিটের মধ্যে সেখানে যায়। আমার সাথে গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাকও যান। সেখানে অনেক পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পায়। আমাকে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে ঘটনা জানানোর দায়িত্ব দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ৫-৭ মিনিটের মধ্যে সমস্ত চেকপোস্ট বন্ধ করে দেয় যাতে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে না পারে। এ সময়ের মধ্যে গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হামলা সম্পর্কে অবহিত করেন। এরপর রেস্টুরেন্টের বাইরের গেটে মহানগর পুলিশ কমিশনার সেখানে গিয়ে ব্রিফ করেন। ব্রিফ করার মধ্যে সন্ত্রাসীরা ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়ে। গ্রেনেডে আমিসহ ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন  মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে রুটিয়ে পড়ি। সেখানে আরও ৩০-৩২ জন পুলিশ আহত হন। আমি মারাত্মভাবে আহত হই। ১০-১২টা স্প্লিল্টার আঘাত আমার শরীরে লাগে। আমার শরীর থেকে অঝরে রক্ত ঝরছিল।

এরপর অচেতন অবস্থায় আমাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যান্য পুলিশ সদস্যদেরও সেখানে নেয়া হয়। জ্ঞান ফেরার পর শুনতে পারি সালাউদ্দিন ও রবিউল মারা গেছেন। ২১ দিন ইউনাইটেড এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা শেষে পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার আমাকে সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ডে পাঠায়। আমার শরীরে ১০-১২টি স্প্লিল্টার রয়েছে।

এ জবানবন্দির পর আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ তাকে জেরা করেন। জেরার ফারুক আহমেদ বলেন, আপনি পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে ডিসি মোস্তাকের নাম উল্লেখ করেননি। জবাবে আ. আহাদ বলেন, আমি সেখানে ডিসি গুলশান উল্লেখ করেছি। তখন ফারুক আহম্মেদ বলেন, আপনি তো নাম বলেননি। তখন আ. আহাদ বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছি। আর তিনি তখন ওই পদে কর্মরত ছিলেন। এ নিয়ে আদালতে একটু উচ্চবাচ্য করেন আ. আহাদ।

এরপর জেরার এক পর্যায়ে ফারুক আহম্মেদ বলেন, জবানবন্দিতে আপনি যে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিতে গেছেন সে কথা উল্লেখ করেননি।

জবাবে আ. আহাদ বলেন, আমি ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর জবানবন্দি দিয়েছি। তখন আমি থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিইনি। আমি ২০১৯ সালে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিয়েছি। আমি যে চিকিৎসা নিয়েছি আপনার তা বিশ্বাস হয় না। আমার কী অবস্থা হয়েছিল আপনি জানেন। আমার অবস্থা মারাত্মক ছিল। আমাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। আপনি আমাকে নিয়ে তামাশা করছেন, ক্রিটিসাইজ করছেন। কার সাথে কথা বলছেন, আমাকে চিনেন? জেনে শুনে প্রশ্ন করবেন। তখন ফারুক আহম্মেদ বলেন, আমরা কেউ কারো শত্রু না। আমার প্রশ্ন আপনার মিথ্যা মনে হলে আপনি না বলে দিতে পারেন। তারপরও ফারুক আহমেদকে তিনি আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেন। তখন ফারুক আহম্মেদ বিচারককে বলেন, উনি তো আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। তখন বিচারক ফারুক আহমেদকে মেরিট অনুযায়ী জেরার করার আহ্বান জানান। আর আ. আহাদকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, এটা কোর্ট, এখানে অবান্তক প্রশ্ন আসতে পারে। টেমপার হারাবেন না।

সাক্ষ্য গ্রহণকালে আসামি মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন, শফিকুল ইসলাম ওরফে খালেদ, হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী ও হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন নিহত হন।

(ঢাকাটাইমস/২৫জুন/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :