ভালো কাজগুলো মনে হয় সংক্রমণের মতো

রাসেল মাহমুদ
| আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ১০:১৮ | প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৯, ১০:১৪

১. আজ যখন অফিস থেকে বের হয়েছি, তখন রাত সাড়ে নয়টা। বাসায় ফেরার তাড়া ছিল না। তাই অনেকটা নির্ভার হয়েই কলিগদের সঙ্গে হেঁটে শাপলা চত্বর এসেছি। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে যে বাসটাতে উঠলাম, সেটা প্রায় ফাঁকাই ছিল। কিন্ত বিপত্তি মনে হলো বাস ছাড়ার কিছুটা আগে। যে ছিটে বসেছিলাম তার পাশেই দুটি মেয়ে এসে দাঁড়াল। অল্প বয়সী। ১৮-২০ হবে হয়তো। আমরাও ছিলাম দুজন। মেয়ে দুটি ঘাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে আর আমরা বসে আছি, এটা অশোভন মনে হলো। আবার সিট ছেড়ে বসতে বলবো সে সাহসও পাচ্ছিলাম না। পাছে লোকে কিছু বলে! মেয়ে দুটি কি মনে করে! যতক্ষণে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলাম, ততক্ষণে বাসে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তড়িৎ সিদ্ধান্তে উঠে দাঁড়িয়ে তরুণীদের বসতে দিলাম। ঠিক তার আগের সিটেই বসেছিলেন মধ্য বয়সী দুজন ভদ্রলোক। তাদের সিটের পাশেও দুজন নারী দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা উঠে দাঁড়ানোর কিছুটা পরে তারাও সিট ছেড়ে মহিলাদের বসতে দিলেন।

২. কিছুদিন আগের কথা। তপ্ত দুপুর। বাংলা একাডেমি থেকে ফিরছি। উদ্দেশ্য একটু হেঁটে দোয়েল চত্বর এসে রিকশা নেব। হেঁটে এসে কার্জন হলের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রায় মিনিট বিশেক দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো রিকশাওয়ালার মন জয় করতে পারলাম না। এমন সময় দেখলাম দুজন তরুণী আর একজন তরুণ গল্প করতে করতে হাঁটছে। তিনজনের হাতেই কোকের বোতল। ঠিক আমার সামনে এসে তাদের দুজন কোকের খালি বোতল ফেলে দিল। তারা যখন হেঁটে একটু এগিয়ে গেল, তখন বোতল দুটি কুড়িয়ে পাশের ডাস্টবিনে ফেললাম। এর কিছুটা পরেই রিকশা পেলাম। ক্লান্ত-শ্রান্ত রিকশাওয়ালা আমাকে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যা বললেন, তাতে অবাকই হয়েছি। তার ভাষ্যমতে, আমি যখন কোকের বোতল ডাস্টবিনে ফেলছিলাম, রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে এক তরুণী সেটা দেখেছেন। আমি বেশ কিছু সময় রিকশার জন্য অপেক্ষা করেছি তাও তিনি দেখেছেন। এজন্য বিশ্রামরত রিকশাওয়ালাকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন তিনিই!

রিকশাওয়ালাকে নির্ধারিত ভাড়ার থেকে সামান্য কিছু বেশি দিলাম। কিন্তু বেশিটা তিনি নিলেন না। বললেন, এরপর থেকে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে বিশ্রাম না নিয়ে তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন।

৩. সুলতান আমার বন্ধু। ঢাকার বাইরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করেছে। হলেই থাকতো। বছর খানেক হলো হল ছেড়ে ঢাকায় এসেছে। সারাদিন লাইব্রেরি ওয়ার্ক করে আর বিকালে টিউশনি। সমস্যা হলো টিউশনির টাকা সময় মতো সে পায় না। বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ থাকলেও কখনো কাউকে তেমন বলেনি। কিছুদিন আগের কথা। এক ছাত্রীর বাসার কাজের মেয়েটা অসুস্থ। ঢাকা মেডিকেলে এডমিট। রক্ত লাগবে। গভীর রাতে মেয়েটিকে রক্ত দেয় ‘ভীতু’ সুলতান। বিষয়টি ভালো লাগে ছাত্রীর বাবার। এ ঘটনার মাস খানেক পর সুলতানকে তার বন্ধুর অফিসে বেশ ভালো একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেন তিনি। ভালো কাজগুলো মনে হয় সংক্রমণের মতো।

লেখক: সাংবাদিক, সাবেক শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফেসবুক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :