আক্রান্তদের সিংহভাগই উচ্চবিত্ত

মৌসুমের শুরুতেই ডেঙ্গুর ‘কামড়’

তানিয়া আক্তার, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ জুন ২০১৯, ০৯:২০ | প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৯, ০৯:১৪
ফাইল ছবি

বর্ষা আসার আগে আগেই হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর ভিড়। আক্রান্তদের সিংহভাগই শিশু। উদ্বেগ অভিভাবকদের চোখে মুখে। ছোট্ট শরীর আর চোখেমুখে বেদনা ভালো লাগে না চিকিৎসকদেরও। এক দশকেরও বেশি সময় ধরেই বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেশে। এডিস মশা নিধনে নগর কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না থাকা আর নগরবাসীর নিজের সচেতনতার অভাব-দুইয়ে মিলে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো উপায় মিলছে না।

শুরুতে ডেঙ্গুর মৃত্যুর হার ছিল উচ্চ। এখন কিছুটা কমে আসলেও চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল আর সময়সাপেক্ষ হওয়ায় পরিবারগুলো পড়ে বিপাকে। তবু বছরের পর বছর একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এবার নগর কর্তৃপক্ষের গবেষণা বলছে, আগেভাগে দেখা মিলছে এডিস মশার। আর সেটা এডিস মশা নিধনে কার্যক্রম শুরুর আগেই। আর এই বিষয়টির প্রমাণ দেখা যাচ্ছে হাসপাতালে হাসপাতালে।

শুধুমাত্র হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষসহ শিশু রয়েছে সেই দীর্ঘ তালিকায়। এটি তো কেবল ভর্তির হালনাগাদ তথ্যের হিসাব। হাসপাতালের একাধিক কর্মী জানান, শয্যা না থাকায় অনেক রোগীকে ভর্তিও করা যায়নি। ফলে পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে আশেপাশের হাসপাতালে। বছরের এই সময়ে রোগীর এত চাপ দেখেননি বলে জানিয়েছেন একজন নার্স। 

পান্থপথ এলাকার বিআরবি হাসপাতালের সহ-সমন্বয়ক চিকিৎসক সানাজানা ইসলাম ঢাকা টাইমসকে জানানন, তাদের এখানে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা জন্ম, সচরাচর উত্ত বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির বসবাসের এলাকায়। এগুলো ঘর বা আশেপাশে জমে থাকা স্বচ্ছ, পরিষ্কার পানিতে জন্ম নেয়, ফলের রস বা এ জাতীয় খাবার খেয়ে বড় হয়।

আর রোগীদের মধ্যে উচ্চমধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তরাই বেশি বলে জানাচ্ছেন বিআরবি হাসপাতালের চিকিৎসক সানজানা। জানান, তাদের এখানে যেসব রোগী এসেছেন, তাদের মধ্যে একজন মারাও গেছেন। তিনি হেমোরেজিক শক নিয়েই এসেছিলেন। অর্থ্যাৎ তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে বাঁচানো যায়নি। আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। 

পপুলার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় প্রত্যেকের বাসা বা অফিসে এসি রয়েছে। আর এসির জমানো পানি, ফুলের টব বা ট্যাংকির জমানো পানি থেকে এডিস মশার জন্ম হয়।

পপুলারের চিকিৎসক মেহেরাজ ইসলাম ঢাকা টাইমসকে জানান, এ বছর তাদের এখানে ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন যাদের মধ্যে পুলিশের ডিআইজি থেকে শুরু করে ডাক্তার পরিবারের সদস্য এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের পরিবারের সদস্য বেশি।

এই চিকিৎসক বলেন, ‘ডেঙ্গ কখনো প্রবাহিত পানি থেকে উৎপন্ন হয় না। তাই বৃষ্টিতে খুব সমস্যা হওয়ার কথা না। জমে যাওয়া পানি থেকেই এডিস মশার উৎপত্তি। ঘরে ঘরে সতর্ক থাকতে হবে।

নগরীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত সিটি হাসপাতালে ভর্তি সাত জন রোগীর মধ্যে কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবী রয়েছেন।

ল্যাবএইড হাসপাতালেও ১০ জন ভর্তিকৃত ডেঙ্গু রোগীদের প্রায় প্রত্যেকেই উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য। তবে এর মধ্যে ৯ জনই সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন।

স্কয়ার হাসপাতালের এ বছরের ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৯০ জন। এর মধ্যে প্রায় ৯৯ ভাগ শিশু। এর মধ্যে একজন নারী ডাক্তারের ১০ মাস বয়সী সন্তানও রয়েছে। এ ছাড়া পেশায় ডাক্তার এমন রোগীর সংখ্যা সেখানে বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ বিভাগের পরিচালক সানায়া তাহমিনা বলেন, চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় অর্ধশতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। তবে হাসপাতাল ছাড়াও অনেক রোগী থাকতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজিএইচএস) দেওয়া তথ্য মতে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি মাসের ২৩ জুন পর্যন্ত  ৫৮৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার উচ্চমাত্রায় উপস্থিতির প্রমাণও মিলেছে তাদের এক জরিপে। সেখানে দেখা যায়, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকে ড্রাম, বালতি, নির্মাণাধীন ভবনের খোলা চৌবাচ্চা এবং ফুলগাছের টবের সংগৃহীত পানিতে উচ্চমাত্রায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৭জুন/ডব্লিউবি/জেবি)  

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :