প্রশ্ন যেহেতু ফাঁস হয়নি, অভিযুক্তরা মুক্তি পাবে কি?

অনলাইন ডেস্ক
| আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ২১:৫২ | প্রকাশিত : ০১ জুলাই ২০১৯, ২০:৪৯

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখলাম দুইটা মেয়ে বেঞ্চে বসে ফোনে ফোনে প্রশ্নের উত্তর শুনে নিচ্ছে। মেয়ে দুটো এতটাই ব্যস্ত যে কেউ একজন পাশেই তাদের কান্ড ভিডিও করছে তা দেখার সময় নাই। বলছিলাম ২১ জুন, ২০১৯ তারিখের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকের কথা, ভিডিওতে কোন লোকেশন দেয়া নাই, তবে মেয়ে দুটির চেহারা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিল ভিডিওতে।

২৪ মে ২০১৯ এর সকালটা অন্য রকম ছিল না, আগের বড় বড় এক্সামে যেমন হয়েছিল তেমনি রব উঠল প্রশ্নফাঁস হয়েছে। সময়টা পরীক্ষার আগেই ছিল। এক্সামের আগেই অনেকেই ম্যাসেজ করে বলছে, তারেক ভাই, প্রশ্নফাঁস হয়েছে একটা কিছু করেন, এই পরীক্ষার জন্য দিনকে দিন সময় মাটি করে শুধু পড়েছি।

তারা বলে আর কাঁদে, আর প্রশ্নফাঁসের বিভৎস রূপ বর্ণনা করে।

আমি আর কি করব..?

বললাম, শরিফুল ভাইকে কল দেও, মৌ আপুকে কল দেও।

ভয়ে ভয়ে পর্যবেক্ষণ করছিলাম অনলাইনে। ১০.৪৫ মিনিটে অনলাইনে আসার পর সেই ভয়টায় সত্য হলো।

সবাই বলতে লাগল, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া প্রশ্নের সাথে মিল আছে।

গ্রেপ্তার হলো বেশ কয়েকজন বিভিন্ন জেলা হতে, গ্রেপ্তার হলো সাতক্ষীরা হতেও,  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিডিয়াকে জানালো।

সাতক্ষীরা হতে প্রশ্নফাঁস উদঘাটিত হলেও মূলত তা ঢাকা হতে ফাঁস হয়েছে।

ref: দৈনিকা শিক্ষা ডট কম ১৩ জুনে প্রকাশিত, ‘ঠেকানোই যাচ্ছে না প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নফাঁস।’

এবার আসুক ৩১ মে, ২০১৯ তারিখের কথা, সময় নিউজ ডট টিভি তে পাব্লিশ হয়, পটুয়াখালিতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস আটক ৪৫ জন।

এতে আটক ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এই খবরগুলো গণহারে জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

ছাত্রসমাজ মাঠে নামে এর প্রতিবাদে, সারাদেশেই মানববন্ধন পালিত হয় প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে।

কিন্তু দুক্ষের বিষয় প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছিল প্রশাসন।

১৬ তারিখে দেশব্যাপী কর্মসূচির ডাক দিলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক জানান, প্রশ্নফাঁসে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, চলতি মাস শেষে কমিটি তদন্তের প্রতিবেদন দেবে।

এরপরই আবার বিবৃতি দেন, প্রাথমিক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদের আমরা অনলাইন অফলাইনে সর্বোচ্চ প্রতিবাদ করেছিলাম, এমনও হুমকি দিয়েছিলাম, কোন গ্রুপের মাধ্যমে প্রশ্ন বিক্রির অফার এলে,  সে গ্রুপের এডমিনের ছবি আমরা গ্রুপে প্রকাশ করব।

পরের দুই ধাপের এক্সামে প্রশ্নফাঁসের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নাই।

ছাত্রসমাজের এমন শক্ত অবস্থানের জন্যই কেবল প্রশ্নফাঁস ঠেকানো সম্ভব হয়েছিল।

আজ  জুন মাস শেষের পথে, কথা ছিল তদন্ত প্রতিবেদন দেবে এই মাসের মাঝেই। পরীক্ষার্থীরা চাতক পাখির মত চেয়ে আছে তদন্ত রিপোর্টের দিকে।

কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে মাননীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই প্রচার করছেন, ‘প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি  গুজব’, যা চরমভাবে আঘাত করেছে পুরো বেকারসমাজকে।

একটা দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন মিথ্যাচার কি তদন্ত প্রতিবেদনকে বাধাগ্রস্ত করবে না?

নাকি তদন্ত প্রতিবেদনকে বাধাগ্রস্ত করতেই এমন মিথ্যাচার করলেন মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

প্রশ্নফাঁসের এত এত ব্রেকিং নিউজ, এত এত প্রতিবেদন, সব কি মিথ্যা হয়ে যাবে প্রতিমন্ত্রীর একটা বক্তব্যে।

আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, দেখি, রাষ্ট্র কতটা বৈরী আচরণ করতে পারে বেকারদের সাথে।

মো: তারেক রহমান

যুগ্ম আহবায়ক

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফেসবুক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :