শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা

তিন মামলার রায় আটকে উচ্চ আদালতে

সিরাজুম সালেকীন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ১৭:৩৩ | প্রকাশিত : ০৩ জুলাই ২০১৯, ১৪:৪১

প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে বারবার হত্যা চেষ্টার ঘটনায় করা ১৪টি মামলার মধ্যে চারটির রায় হলেও একটিরও মীসাংসা হয়নি। আজকের আগে যে তিনটি মামলার রায় হয়েছে, সেগুলোর কোনোটির রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি হয়নি উচ্চ আদালতে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষেরও তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সময় বিদেশে থাকায় বেঁচে যান দুই কন্যা। ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে দেশে ফেরা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বারবার। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯টি হত্যা চেষ্টা থেকে বেঁচে যান তিনি। আর ১৪টিতে মামলার তথ্য আছে।

এই মামলাগুলোর মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আজ বুধবার রায় হয়েছে পাবনার বিচারিক আদালতে। এর আগে ২০১৭ সালে দুটি এবং ২০১৮ সালে একটি মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলায় ২৯ জনের ফাঁসি, ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং ১১ জনের ২০ বছরের এবং নয় জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে।

পাবনার মামলায় ২৫ বছর পর ফাঁসির রায় হয়েছে নয় জনের। ২৫ জনের যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড হয়েছে।

এই প্রতিটি মামলা বিচারের পর্যায়ে আসতে সময় লেগেছে দীর্ঘ দিন। সবচেয়ে কম সময়ে রায় হয়েছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার। ঘটনার ১৪ বছর পর বিচারিক আদালতে আসে রায়। ২০০১ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার রায় আসে ১৬ বছর পর, ২০১৭ সালে। আর এর চেয়ে বেশি সময় লাগে ১৯৮৯ সালের হত্যা চেষ্টার মামলা। ২৮ বছর পর এই মামলার রায় আসে ২০১৭ সালে।

এই দীর্ঘ সময় লাগলেও উচ্চ আদালতে কোনো মামলারই দ্রুত মীমাংসার উদ্যোগ নেই।    

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

এই মামলাটি তদন্তের পর্যায়ে থাকার সময় নানা ঘটনা ঘটে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার প্রকৃত হামলাকারীদের বাঁচিয়ে নিরীহ জজ মিয়াকে ফাঁসানোর চেষ্টা ফাঁস হয়েছে। অনেক ঘটনাপ্রবাহেএক যুগেরও বেশি সময় লেগে যায় বিচারিক আদালতে রায় আসতে।

বিচারিক আদালতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণের পর এই মামলাটি উচ্চ আদালতে দ্রুত মীমাংসার আশা করা হচ্ছিল। শুরুতে তৎপরতাও দেখা গেছে। ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর দুই মামলার রায়সহ ৩৭ হাজার তিনশ ৮৫ পৃষ্ঠার নথি পৌঁছে হাইকোর্টে। এর পর সাত মাসেও শুনানি হয়েছে- এমন তথ্য নেই। কবে শুনানি হবে, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কিছু বলতেও পারছে না।

প্রথম রায়

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সবার আগে রায় আসে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই। ২০০১ সালের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে গোপালগঞ্জে কোটালীপাড়ায় জনসভা স্থলের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোতা পুঁতে রাখা হয়েছিল। পরদিন ৮০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করা হয় কোটালীপাড়ার হেলিপ্যাড থেকে। এই মামলার নিষ্পত্তি হতে লেগে যায় ১৬ বছর।

মামলায় ১০ জনকে ফায়ারিং স্কোয়াডে দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ হয়েছিল। একই সঙে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলার রায়সহ সকল নথি ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর প্রধান বিচারপতির কাছে নথি উপস্থাপন করা হলে তিনি জরুরি ভিত্তিতে এ মামলার পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এরই মধ্যে পেপারবুক তৈরি হলে হাইকোর্টে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। কিন্তু এখনো এর নিষ্পত্তি হয়নি।

দ্বিতীয় রায়

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার দ্বিতীয় রায়টি আসে ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর। ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড ছুড়ে বলে অভিযোগ আছে। শেখ হাসিনা তখন ওই বাসাতেই থাকতেন। ওই ঘটনায় বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম একটি মামলা করেন।

এই মামলায় ফ্রিডম পার্টির ১১ জনকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত। দণ্ডিত আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করলেও এর শুনানি হয়েছে কি না, হলে সেটি কোন পর্যায়ে আছে, এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না রাষ্ট্রপক্ষ। তবে আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি, এটা নিশ্চিত।

অন্যান্য অনেক মামলার মতো এই মামলাটিতেও তদন্তে অবহেলার অভিযোগ ছিল। এরশাদ আমলে তো নয়ই, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পাঁচ বছরও মামলাটির তদন্ত আগায়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ তদন্ত করে। হামলার সাড়ে সাত বছর পর ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর এই মামলাটি আবার আটকে যায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর ওই বছরের ৫ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

ঢাকাটাইমস/০৩জুলাই/এসএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :